নিউজটি শেয়ার করুন

মোজাম্বিকে বাঁশখালীর দুই সন্তানের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু

বাঁশখালী প্রতিনিধি: পূর্ব আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিকে মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিন( ২৮) এবং ছাবের আহমদ (৩৫) নামে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল মোজাম্বিকের জামবেজিয়া প্রদেশে মিলান্জি ডিসট্রিক্টের নুটুকো এলাকায় নিজ বাসায় তালাবন্ধ অবস্থায় দুজনকে মৃত পাওয়া যায়।

খবর নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিন এবং ছাবের আহমদ দুজন একি সাথে ২০১৬ সাল থেকে শেয়ারি ব্যবসা করে আচ্ছিলো। মিলান্জির পার্শবর্তি মালাউই বর্ডারে তাদের কয়কটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিলো। ছাবের আহমদ এবং মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিনের ছোট ভাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালানা করতো। মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিন মিলান্জি শহরে থেকে দোকানের জন্য মালামাল পাঠানোর জন্য মিলান্জি শহরে থাকতো এবং মিলান্জি শহর থেকে কয়কদির পর পর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে টাকা তুলে আনতো। গত ২০ এপ্রিল মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিন মিলান্জি থেকে টাকা তুলার জন্য ছরোয়ার উদ্দিনের অংশীদার ছাবের আহমদ এর ব্যবসা প্রতিষ্টানে যায়। সেখানে যাওয়ার পর থেকে বৃষ্টি শুরু হয় যার কারণে ছরোয়ার উদ্দি ওখানে থেকে যায়। ২৩ এপ্রিল সকালে মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিনের মিলান্জি শহরে চলে আসার কথা ছিলো কিন্তু সকালে মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিনকে মোবাইলে কল দিলে মোবাইল রিসিভ করেনি। ছরোয়ার উদ্দিন কল রিসভ না করলে ছাবের আহমদকে কল দেওয়া হয় কিন্তু ছাবের আহমদও কল রসিভ করেনি। এইভাবে সকাল থেকে বিকাল হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর দুজনের মোবাইল বন্ধ হয়ে যায়। পার্শ্ববর্তী কিছু দুরে মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিনের ছোট ভাইয়ের দোকান। দুজনের মোবাইল যখন বন্ধ পাওয়া যায় তখন ছরোয়ার উদ্দিনের ছোট ভাইসহ কয়েকজন বাংলাদেশি রাত ৯টার সময় তাদের খোজ নিতে ছাবের আহমদের বাসায় আসে । বাসায় গিয়ে দেখা যায় বাসা তালাবন্ধ । অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করা হলে তাদের কোন সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। সাড়াশব্দ না পাওয়ায় তারা দরোজার তালা ভেংগে ভিতরে ডুকে দেখা যায় দুজনই মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বাসার ভিতরে টাকা মোবাইল সহ সব কিছু ঠিকঠাক আছে এবং তাদের শরীরে কোন ধরণের কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তাদের এমন মৃত্যুতে সব বাংলাদেশিরা হতভাগ। কেনো কি কারণে তাদের হঠাৎ এইভাবে মৃত্যু হলো কেউ কারণ খুজে পাচ্ছে না। তবে কেউ কেউ ধারণা করছে তারা যে রুমে ছিলো তার পাশের রুমে ভুট্টা রাখা হয়েছিল। সেই ভুট্টাতে পোকা না ধরার জন্য কিটনাশক (বিষ) দেওয়া হয়। সেই কিটনাশক (বিষ) এর কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিন বাঁশখালী উপজেলায় সরল ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডে বাদশা মিয়ার ছেলে। এই বছরের ডিসেম্বরে মোহাম্মদ ছরোয়ার উদ্দিন দেশে আসার কথা ছিলো। মৃত ছাবের আহমদ বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়ের ৮নং ওয়ার্ডের আব্দুল মাতলবের ছেলে। ছাবের আহমদ গত মাসে বাংলদেশে ছুটি কাটিয়ে গেছে।