সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনা ভাইরাসের মহামারিতে সারা বিশ্ব লন্ডভন্ড। এ ভয়ানক হানায় আধুনিক প্রযুক্তি ও চিকিৎসা ব্যবস্থা এক প্রকার অসহায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে অনেকে চালিয়ে যাচ্ছেন নানা গুজব ও অপপ্রচার। কেউ কেউ সাধারণ মানুষের সহজ সরল বিশ্বাসকে পুজি করে লুফে নিচ্ছেন ভন্ডামির সুযোগ। চালিয়ে যাচ্ছেন অভিনব বাণিজ্য।
এমন এক ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে রাউজানে।
উপজেলার জারুলতলা এলাকায় (৬ নং বিনাজুরি ও ৭ নং রাউজান ইউনিয়নের দুটি গ্রাম নিয়ে গঠিত) অবস্থিত পশ্চিম রাউজান-পূর্ব লেলেংগারা জামে মসজিদ। এ মসজিদের মুয়াজ্জিন আবু বকর নামের এক ব্যক্তি। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে নিয়ে করোনা প্রতিরোধের নামে সমাজের বিভিন্ন জনের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন নানা অঙ্কের টাকা।
এ ব্যাপারে যারা দ্বিমত পোষণ করছেন আকবর নামের জনৈক ব্যক্তি তাদের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। প্রকাশ্যে নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক এক মেম্বার ও মসজিদ কমিটির সভাপতির পুত্র। জানে আলম নামের এক ব্যক্তির পুত্রও সাথে থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। কোন গণমাধ্যম কর্মী এ ব্যাপারে যাচাই করতে গেলে তাদেরকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করছেন।
বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে তারা বিষয়টি নজরদারীতে রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে পশ্চিম রাউজান-পূর্ব লেলাংগারা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় গাছে গাছে ঝুলানো হয়েছে দোয়া পড়ার নামে আরবী লেখা সম্বলিত কাপড়। ধর্মীয় রীতিনীতির দোহাই দিয়ে পুতে রেখেছেন লাল পতাকা।
এ ব্যাপারে মসজিদের মুয়াজ্জিন আবু বকরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কিছু ব্যক্তির চাপের মুখে বাব-দাদার কাছ থেকে শেখা পদ্ধতিতে করোনা প্রতিরোধ করেছি। এ বাবদ স্থানীয় কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছি। তবে যে পরিমাণ দেয়ার কথা ছিল তা দেয়নি। অন্য কেউ হলে আরো বেশি নিতো। অন্যকে সুযোগ না দিয়ে নিজে লুফে নিলে ভাল না?’
বিষয়টি মসজিদের মোতয়াল্লী আইয়ুব খান চৌধুরীকে অবগত করা হলে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে আমি শহরে অবস্থান করলেও মোয়াজ্জেম আবু বকরকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হবে।
রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে নানা ধরনের গুজব এবং অপপ্রচার ছড়ানো যেমন অপরাধ। করোনা প্রতিরোধের নামে লাল পতাকা উড়ানোও তেমন অপরাধ। কোথায় কারা এ কাজ করছে আমাকে তথ্য দিন। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে স্থানীয়লোকজন এবং মসজিদ কমিটি সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জানান, মসজিদ কমিটির কতিপয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মসজিদকে গ্রাম্য রাজনীতির কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করেছে। ধর্মীয় বিধিবিধান ও রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে মসজিদের কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। মুয়াজ্জিন আবু ব্করের বিরুদ্ধে ছাত্রী নিপিড়নসহ নানা অভিযোগ উঠার পরও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ ব্যাপারে কেউ কিছু বলতে গেলে হুমকি ধমকি আর সালিশ বিচারের ভয় দেখিয়ে থাকে।
বিষয়টি ওয়াকফ প্রশাসনকে অবহিত করা হলে দায়িত্বশীলরা জানান, অভিযোগ পেলে সবকিছু খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, মুয়াজ্জিন, কতিপয় মসজিদ কমিটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যক্তির উপরোক্ত কর্মকান্ডের অডিও, ভিডিও রেকর্ডসহ দালিলিক নানা তথ্যপ্রমাণ এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।








