গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান প্রতিনিধি: রাউজানে চলতি লকডাউনের প্রথম দিকে জনসাধারণ প্রশাসনের দন্ড ও আইন-শৃঙ্খলারবাহিনীর র্যাব, পুলিশের ভয়ে বাসা-বাড়ি হতে বের না হলেও ৪র্থ দিনে এসে নানান অজুহাতে এদিক-সেদিক যাতায়ত করছেন।
প্রাশসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ধীরে ধীরে দোকানপাটের অংশবিশেষ খোলা রেখে ভীড়ে জমিয়ে করছেন কেনা-বেচা। রাউজানের অভ্যান্তরিণ সড়কগুলোর প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হলো সিএনজি চালিত অটোরিকশা।
এই অটোরিকশাগুলো বন্ধ রাখার জন্য লকডাউনের শুরুতে প্রতিটি ইউনিয়নে একশজন অটোরিক্সা চালককে প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ নগদ একহাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তবুও তারা সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপজেলার তিন অভ্যান্তরিন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নোয়াপাড়া সেকশন -২ ও সেকশন-২ সড়ক, দোস্ত মোহাম্মদ সড়কে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া দাবী করে অবাদে চলাচল করছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা ।
এই লকডাউনে সরকার ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবির সোহাগের নেতৃত্বে র্যাব-৭এর হাটহাজারী সার্কেল ও থানা পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়।
রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে রাউজান পৌরসভার গহিরা চৌহমুনিতে অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমান আদালত। ভ্রাম্যমান আদালতের উপস্থিতি দোকানপাট বন্ধের হিড়িক পড়ে যায়। নানান অজুহাতে বের হওয়া লোকজনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই সময় দেখা যায়, বেশ কিছু সংখ্যাক জনসাধারণ ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে লুকোচুরিতে মেতে উঠতে দেখা যায়।
রাউজান উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করছি। জনসাধারণকে অপ্রয়োজনে বের না হওয়ার অনুরোধ করছি। যারা বের হচ্ছে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দিচ্ছি। প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যায্যমূল্যের বিক্রয় সেবা কেন্দ্র চালু করেছি। কর্মহীন শ্রমিকদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এক হাজার টাকা করে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিরাও মাঠে আছেন। রাউজানে শতভাগ লকডাউন বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এদিকে গত একসপ্তাহ ধরে রাউজান উপজেলা সহ পাশ্ববর্তী তিন উপজেলা ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়ায় ব্যাপকহারে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রাউজান ৪ ও ৫ ই জুলাই দুই দিনে মোট ৬৩ জন নমুনা দিয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এই পর্যন্ত ৪৬৭৪ জন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬৩৩ আক্রান্ত হয়েছেন। ১১০৫ জন সুস্থ হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।
সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নির্দেশে পৌর মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ, গহিরায় পৌর প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান, পাহাড়তলীতে ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, নোয়াপাড়া ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল মিয়া স্ব-স্ব এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে থাকায় এসব স্থানে কঠোরভাবে লকডাউন পালিত হয়।
এই বিষয়ে পৌর প্যানেল মেয়র বশির উদ্দিন খান বলেন, আমাদের নেতা সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর নির্দেশে লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা, শুরু হতে সচেতনমূলক প্রচারণা চালিয়েছি। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি আমরাও মাঠে কাজ করছি। সেই সাথে কর্মহীন পরিবারের মাঝে ত্রাণ সহায়তাও প্রদান করছি।








