Site icon CPLUSBD.COM

রাউজানে চাঁদাবাজীর অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান পুত্র আটক

রাউজানে ইট-বালির ব্যবসায় জোরপূর্বক আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মো. সালাউদ্দিন আহমেদ(৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে রাউজান থানা পুলিশ।

আটককৃত যুবক উপজেলার ১০ নং পূর্বগুজরা ইউনিয়নে পরিয়দের চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দিন আহমদের পুত্র।

সোমবার(৩ ফেব্রয়ারি) দুপুরে পুর্বগুজরা মোহম্মদীয়া নগরস্থ চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি হতে তাকে আটক করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, মো. সালাউদ্দিন ইট-বালি ব্যবসায় জড়িত আছেন। এলাকায় কারও ইট-বালি প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যান পুত্র সালাউদ্দিন তার কাছ থেকে চড়ামূল্যে কিনতে বাধ্য করেন। কেউ নিজ উদ্যোগে অন্যকোন উৎস হতে ইট-বালি কিনলে তাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে নানা ভাবে লাঞ্চিত করতেন।

এমন লাঞ্চনার শিকার একই ইউনিয়নের বঙ্গদীঘির পাড় এলাকার আব্দুল গফুর মাস্টারের বাড়ির আজিম নুর হোসেনের প্রবাসী পুত্র নুরুল আমিন সিপ্লাস টিভিকে জানান, তিনি বাাড়ির পাশে নতুন দালান নির্মাণ করছেন। দালানের জন্য চেয়ারম্যানের পুত্র মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছ হতে বেশি মুল্যে ইট, বালি কিনতে বাধ্য করেছিল। সম্প্রতি  ইটভাটা হতে সরাসরি কমমূল্যে ইট ক্রয় করে নিয়ে আসলে সে ট্রাক ড্রাইভারকে মারধর করেন। তার কাছ হতে ইট-বালি না কিনার কারণে দালান নির্মাণের ঠিকাদার ছোটনকে লক্ষ করে গুলি ছুড়েন। এই বিষয়ে তিনি স্থানীয় সাংসদ এবিএম ফজলে করিম চেীধুরীর নিকট সরাসরি নালিশ করলে সাংসদ স্থানীয় থানা প্রশাসনকে চেয়ারম্যানের চাঁদাবাজ পুত্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এই প্রেক্ষিতে থানা পুলিশ আজ (সোমবার) তাকে আটক করেন।

তবে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ তাকে আটক করার কথা অস্বীকার করে সিপ্লাস টিভিকে বলেন এই ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না।

এলাকার কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, সোমবার দুপুরের দিকে সালাউদ্দিনকে হাতকড়া পড়িয়ে পূর্বগুজরা পুলিশ ফাঁড়ীর দিকে নিয়ে যেতে দেখেছেন।

সোমবার বিকালে থানা ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়া সালাউদ্দিনের এক শ্যালক তারেকুল ইসলাম তালুকদার তাকে আটকের বিষয়ে স্বীকার করে বলেন সাদা পোষাকে পুলিশ দুপুরে বাড়ি থেকে সালাউদ্দিনকে আটক করেছে। তবে তিনি দাবি করেন তার ভগ্নিপতির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার দাবি শত্রুতা করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা নালিশ করা হয়েছে।

এদিকে সাংসদ পুত্র ফারাজ করিম চৌধুরী চেয়ারম্যানপুত্র আটকের বিষয় নিশ্চিত করে তার নিজস্ব ফেসবুক পেইজে (Faraaz Karim Chowdhury) একটি স্ট্যাটাস দেন।

তা হুবহু তুলে ধরা হল, “আপনারা অনেকেই শুনে নিজেদের মনে প্রশান্তি পাবেন যে, রাউজানের ১০ নং পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন পরিষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্বাস উদ্দিন আহমেদের ছেলেকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ নিশ্চয়ই এলাকাবাসীরা আমার চেয়ে ভালো জানবেন। তার কাছ থেকেই ইট-বালি নিতে হবে তা না হলে অস্ত্র প্রদর্শন করবে। এলাকায় অন্য কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। শুধুমাত্র সে নিজেই একছত্র ব্যবসা করবে, এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করবে। ছেলের জন্য কি বাবার মানসম্মান কমেছে? অবশ্যই না। কারণ, জনাব আব্বাস উদ্দিন আহমেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি। আমাদের মুরুব্বি তিনি। ইতোপূর্বে তিনি তার ছেলেকে অনেকবার সতর্ক করার পরেও সে নিজেকে শোধরাতে পারে নি। যার ফলশ্রুতিতে আজকে গ্রেফতার হতে হল। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করছি, আপনারা বাংলাদেশের অনেক ভি.আই.পি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছেন। তাই আমাদের কোন জনপ্রতিনিধি কিংবা তাদের সন্তান এমনকি আমি নিজেই যদি কোন ধরনের অপরাধমূলক কাজ করি তবে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া আপনাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব আপনাদের অবশ্যই পালন করতে হবে। যদি তা এড়িয়ে যান তবে তরুণ প্রজন্ম আপনাদের ক্ষমা করবে না।”