গাজী জয়নাল আবেদীন, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজানে ধানের জমিতে চাষ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই কৃষককে কুপিয়ে জখম করলেন যুবলীগ নেতা আবুল হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের খুইল্ল্যা মিয়া বাপের বাড়ির এবাদত খানার সম্মুখে এই ঘটনাটি ঘটে।
আহত দুই কৃষক একই এলাকার আহমেদ মিয়া (বোসা)’র পুত্র রাশেদুল আলম (২৮) ও খোরশেদুল আলম সাদ্দাম (২৪)।
হামলাকারী আবুল হোসেন (৪৬) এলাকার মেহেরুজ্জামান চেয়ারম্যানের বাড়ির মৃত আহমেদুর রহমানের পুত্র এবং উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সদস্য।
আহতদ্বয়ের বৃদ্ধ পিতা আহম্মদ মিয়া (বোসা) বলেন, আবুল হোসেন পাওয়ার টিলার দ্বারা আমাদের জমির অংশবিশেষ চাষ দিয়ে ফেলে রাখেন। আজ (৫ আগস্ট) বিকালে তাকে জমি চাষ বাবদ ২ হাজার টাকা দিয়ে বাকী জমি কবে চাষ দিবে জানতে চাইলে তিনি পাঁচ হাজার টাকা দাবী করেন। তখন আমার জমিতে সম্পূর্ণ চাষ দিলে তাকে টাকা দেব বললে আবুল হোসেন আমার ছেলেদের গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ পর তার ছেলে মাহিমের মাধ্যমে বাড়ি হতে দা এনে আমার ছেলেদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে। বর্তমানে ছোট ছেলের অবস্থা আশংকাজনক।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভূপেষ বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। কি কারণ জানতে চেষ্টা করছি। অপরাধীর শাস্তি হউক এটা আমরা চাই। ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে আমরা আইনগত সহায়তা করব।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্যসহ আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হতাহতের খবরাখবর নিয়েছি। আহতরা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে ভুক্তভোগীর কেউ এখনও কোন মামলা দায়ের করেন নি।
আবুল হোসেনের ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, আবুল হোসেন একজন সন্ত্রাসী। তিনি দলীয় নাম ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাশের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন। তার দুটি পাওয়ার টিলার আছে। এগুলো দ্বারা এলাকার আশেপাশের বিলগুলোতে জমির অংশবিশেষ চাষ দিয়ে ফেলে রাখেন।
অন্যান্য পাওয়ার টিলারের মালিককে তিনি বিলে নামতে দেন না। অনেকে তার ভয়ে জমি চাষ দিতে নামেন না। এলাকার কৃষকরা তার কাছে জিম্মি হয়ে আছেন। জমি চাষের বাবদ ইচ্ছেমত টাকা দাবী করেন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানও এমন অভিযোগ পেয়েছেন বলে জানান। এই বিষয়ে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আবুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ঘটনার পর হতে পলাতক থাকার কারণে তা সম্ভব হয় নি।

