Site icon CPLUSBD.COM

হতাশাগ্রস্ত এক নি:সঙ্গ পালক পুত্র খুন করলেন মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আজমকে

রাউজানে মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আজম চৌধুরী হত্যাকান্ডে জড়িত শেখ সোহবার হোসেন সাদিচ(২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৭। ৯ ফেব্র“য়ারি, রবিবার রাতে রাউজানের পথেরহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কিরিচ ও রক্তমাখা জামা উদ্ধার করা হয়। শেখ সোহরাব হোসেন সাদিচ উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের শেখ বাড়ির মৃত ফিরোজ আহমেদ প্রকাশ সোনা মিয়া মুন্সির পালক পুত্র।

সোমবার সকালে শেখ সোহরাব হোসেন সাদিচের বাড়িতে সরেজমিন দেখা যায়, সেমিপাকা দক্ষিণ মুখি ফাঁকা বড়ি। বাড়িতে দরজা-জানালার পরিবর্তে টিন দিয়ে আটকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সময় কথা হয় পার্শ্ববর্তী জাহেদা বেগমের সাথে। তিনি জানান, প্রায় ২৭ বছর পূর্বে ফিরোজ আহমেদ প্রকাশ সোনা মিয়া মুন্সি ও হাসিনা বেগমের একমাত্র পুত্র সন্তান সরোয়ার (২৪) মারা যাওয়ার পর সাদিচকে শিশু অবস্থায় দত্তক নেন। দত্তক নেওয়ার বছর খানেক পরে সোনা মিয়া মুন্সি মারা যান। বিগত চার বছর পূর্বে মারা যান সোনা মিয়া মুন্সির স্ত্রী হাসিনা বেগম। তাদের দুই বিবাহিত মেয়ে থাকেন শাশুড় বাড়িতে। ফাঁকা বাড়িতে সাদিচ একা থাকতেন। কখনও কখনও কোথাও চলে যেতেন। তবে, সে এলাকার কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করতেন না। কথা হয় উরকিরচরের বৈজ্যাখালী বাজারের কামার রতন কর্মকারের সাথে।

তিনি জানান, শনিবার সকাল ৯ টার দিকে সাদিচ নামের ছেলেটি এসে এক হাজার টাকা মূল্যের একটি কিরিচ কিনে নিয়ে যায়। একই দিন দুপুর ১২ টার দিকে সে আবার দোকানে এসে কিরিচটি আমার গায়ের দিকে ছুঁড়ে মেরে বলেন কিরিচটি লাগবে না ফেরৎ নেন। রবিবার রাতে র‌্যাব তাকে নিয়ে দোকানে আসেন। সে সবার সামনে মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। স্থানীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, নিহত নুরুল আজম বিভিন্ন জায়গায় বই ফেরি করতেন। দুই বছর পূর্বে স্কুলের পাশে দোকান দেন নুরুল আজম। গত ছয়মাস ধরে নুরুল আজমের সাথে পুঁজি দিয়ে দোকানের শেয়ার হন। স্কুল চলাকালিন সময় পর্যন্ত দোকানটি চালু থাকতেন। খুনের দায়ে আটককৃত সাদিচ দোকানে আসতেন । নিহত নুরুল আজমের কাছ হতে সে ভাত খেতেন। নুরুল আজমের কাছ হতে সে মাঝে মাঝে টাকা চেয়ে নিতেন। র‌্যাব জানিয়েছে, শেখ সোহরাব হোসেন সাদিচ ক্ষোভ থেকে নুরুল আজম চৌধুরীকে হত্যা করেছে। সোহরাবকে নিয়ে বিভিন্ন সময় ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতেন নুরুল আজম। এতে তার ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। গত পাঁচ মাস ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল সোহরাব।

সোমবার দুপুরে চান্দগাঁওয়ে র‌্যাব-৭ সিপিসি-৩ এর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ। উরকিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বলেন, খুনি যে বা যারা হউক না কেন। তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করছি। আটককৃত সাদিচ একজন সুস্থ প্রকৃতির লোক । সে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকার ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে।

এদিকে সোমবার সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচরের হারপাড়া গ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এস.এম. রশিদুল হক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পাশাপাশি হারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের আতঙ্কিত শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করেন। তিনি হত্যাকান্ডের তদন্ত সম্পর্কে মিডিয়ার সামনে কথা বলতে রাজি হন নি। তবে মামলার আইও পরিদর্শক (অপারেশন) বলেন, আমরা তদন্তের স্বার্থে কিছু বলতে পারছি না । অতি শীঘ্রই আমরা সুসংবাদ দিতে পারব।

এছাড়াও পিবিআই সহ সরকারী বিভিন্ন সংস্থা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্র“য়ারি, শনিবার সকাল ১০টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডস্থ হারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দূবৃত্তরা মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আজিম চৌধুরীকে দেহ হতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে পালিয়ে যান। হত্যাকান্ডের শিকার মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আজিম চৌধুরী পার্শ্ববর্তী হাটহাজারী উপজেলার গড়দূয়ারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গুরামিয়া চৌধুরী বাড়ির আব্দুল হালিম চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। গত ৮ ফেব্র“য়ারি রাতে নিহতের ছোট ভাই এনাম চৌধুরী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নম্বর -৫/০৮-০২-২০২০ (৩০২/৩৪ ধারা)।