নিউজটি শেয়ার করুন

রাউজানে লকডাউন: উত্তরে কড়াকড়ি, দক্ষিণে ঢিলেঢালা!

রাউজান প্রতিনিধি: অস্বাভাবিক হারে বেড়ে চলা করোনার প্রাদূর্ভাব রোধে সোমবার হতে দেশজুড়ে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের টানা লকডাউন শুরু হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে রাউজান উপজেলা প্রশাসন ও রাউজান থানা পুলিশের পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়রসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও মাঠে রয়েছেন।

ইতোমধ্যে সরকার ১১ টি নির্দেশনা সম্বলিত প্রজ্ঞাপন জারি করলে তা অমান্য করার প্রবনতা দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

রাউজানের উত্তরাংশ প্রশাসনের জোর তৎপরতায় কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন হলেও দক্ষিণাংশে এক্কেবারে ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন।

সরেজমিন দেখা যায় উপজেলা সদরের জলিল নগর, মুন্সির ঘাটা, ফকিরহাট, গহিরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, বিপনী বিতান, ফলের দোকান ও গনপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকলেও সকাল হতে বিভিন্ন অজুহাতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।

লাঠি হাতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল হারুনের এ্যাকশন শুরু অটোরিকশাগুলো উধাও হয়ে যায়। সকাল হলে লকডাউন বাস্তবায়নে উত্তরাংশ মাঠে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ।

তার নেতৃত্বাধিন ভ্রাম্যমাণ আদালত জলিল নগরের আবছার মার্কেটে সরকারী নিষেধাজ্ঞা আমান্য করে একটি বস্ত্র বিপননকারী প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এদিক উপজেলার উত্তরাংশের পাহাড়তলী চৌমুহনী, গশ্চি নয়াহাট, পথেরহার উরকিরচর বাজারে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল ছিল স্বাভাবিক দিনগুলোর মত। নিত্য দিনের মত চলছিল রেস্টুরেন্ট, চায়ের দোকান, ফলের দোকান। কাঁচাবাজার ও মুদির দোকানে ছিল মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত।

সকাল ১১ টা হতে দুই টা পর্যন্ত পথেরহাটে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অতীশ দর্শী চাকমা। স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার দায়ে ১১ জনকে বিভিন্ন অংকে সর্বমোট ৩৫০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করে।

অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও তিনি চলে যাওয়ার পর মানুষ ও গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

দুপুরে কিছু সময়ের জন্য কয়েক জন পুলিশ পাহাড়তলী চৌমুহনীতে অবস্থান করলে মোড়ে ও বাজারে অবস্থান করা গাড়ি ও মানুষ পালিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষ লুকোচুরি খেলায় মেতে উঠেন।

অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন শুনেও পুলিশের ভয়ে মানুষকে পলায়ন করতে দেখা যায়।

পথের হাটে সন্ধ্যা সাতটার পরও চায়ের দোকান গুলোতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লকডাউন বাস্তবায়নে উপজেলার উত্তরাংশে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকলেও দক্ষিণে ছিলে এক্কেবারে ঢিলেঢালা। অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই, নেই সামাজিক দূরত্ব, নেই প্রশাসনের তৎপরতা।

এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগ বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে আমরা আমরা সকাল হতে মাঠে আছে। যারা সরকার ঘোষিত নির্দেশনা অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।