নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙামাটিতে বিকাশ কর্মকর্তা হাতিয়ে নিল বয়স্কভাতা!

আলমগীর মানিক,রাঙামাটি: রাঙামাটিতে বিকাশ গ্রাহক সেবায় নিয়োজিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক বৃদ্ধের বয়স্ক ভাতা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিজের নাম্বারের বিকাশ একাউন্টে বয়স্ক ভাতা পান রাঙামাটি শহরের বেকারী লাইনের ৬৫ বছরের বৃদ্ধা আবুল খায়ের। দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে বয়স্ক ভাতার ৩ হাজার টাকা তুলতে যান শহরের নিকটস্থ চেম্বার অব কমার্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে।

বৃদ্ধ অফিসে গিয়ে টাকা তোলার জন্য মুঠোফোনটা  বিকাশ অফিসে কর্মরত খোরশেদ আলমের হাতে দেন। মুঠোফোনটা নিয়ে পিন সেট করার নাম করে অফিসের বাইরে গিয়ে ৩০০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা অন্য একটি নাম্বারে(০১৭৩৪৫৯৯৮৮৯) সেন্ড মানি করে নিয়ে নেয় বিকাশ কর্মকর্তা খোরশেদ। এমনটাই অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধ আবুল খায়ের ও তার মেয়েরা।

শনিবার বিকালে রাঙামাটি শহরের চেম্বার অব কমার্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

বৃদ্ধ আবুল খায়ের জানিয়েছেন, আমার বিকাশ নাম্বারে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বয়স্ক ভাতার ৩ হাজার টাকা আসার পর চেম্বার অব কমার্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিকাশ গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গেলে বিকাশ কর্মকর্তা খোরশেদের কাছে মুঠোফোন থেকে টাকা উত্তোলন করতে দেই। তিনি আমার মুঠোফোনটি নিয়ে অফিসের বাইরে যান। বাইরে থেকে এসে বলে ২৫০০ টাকা এসেছে। আমি বললাম ৩০ হাজার লোকে যদি ৩ হাজার টাকা করে পায় তাহলে আমি ২৫’শ টাকা পাবো কেন? আমাকে বললো আপনি অন্য অফিসে যান। তারপর আমি চেম্বার অব কমার্স সংলগ্ন হানিফ টেলিকমের মালিক ইলিয়াসের কাছে যাই। তিনি আমাকে নিয়ে বিকাশ অফিসে আসেন।

হানিফ টেলিকমের ইলিয়াস জানায়, বৃদ্ধ লোকটি আমার কাছে এসে বললো আমার কাছে বয়স্ক ভাতা ২৫০০ টাকা এসেছে। আমি বললাম এটা কি করে সম্ভব! বয়স্ক ভাতা আসলে তো ৩ হাজার টাকা আসে। বৃদ্ধ বললো বিকাশ অফিসের কর্মরত খোরশেদ আলম আমার একাউন্ট ঠিক করে দিছে সে আমাকে বললো ২৫০০ টাকা আসছে। পরে আমি রিসেন্টলি স্টেটমেন্ট গুলো চেক করে দেখলাম অন্য একটি নাম্বারে ২৫০০ টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন আমি তাদেরকে পরামর্শ দিলাম ওই লোকের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে আমি বৃদ্ধকে নিয়ে বিকাশ গ্রাহক সেবার অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে সে আমাকে হুমকি ধামকি দেয়।

অভিযুক্ত বিকাশ অফিসের কর্মকর্তা খোরশেদ বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি এই কাজ করতে পারিওনা করিওনাই। আমি শুধু পিনকোড টা ঠিক করে দিয়েছি। মোবাইলটা দুই বা তিন মিনিট আমার হাতে ছিলো।

বিষয়টি বিকাশ কর্মকর্তা খোরশেদ অস্বীকার করলেও বিকাশ গ্রাহক সেবার একাউন্টস অফিসার রহিম জানান, খোরশেদের ভুল হয়েছে।তিনি ভুল স্বীকার করেছেন। ভুলটা হচ্ছে যে আমাদের বৃদ্ধ আবুল খায়েরের বিষয়টি সমাধান করে উনার টাকাটা বের করে দেওয়া। আমরা দুঃখিত। আমরা উনার টাকাটা বের করে না দিয়ে উনাকে বিদায় করে দিয়েছি তাই দুঃখ প্রকাশ করছি। এটা বিকাশের ভুল হয়ছে। আমাদের নিয়ম হলো যে উনার টাকাটা ঠিক করে বের করে দেওয়া।

তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে পরে অবস্থা বেগতিক দেখে বৃদ্ধকে ৫০০ টাকাসহ মোট ৩০০০ টাকা বুঝিয়ে দেন বিকাশ গ্রাহক সেবার কর্মকর্তারা।

রাঙামাটিতে চলতি সপ্তাহে একাধিক বিকাশ প্রতারনার ঘটনা ঘটেছে। বিকাশে টাকা পাঠালেও রিসিভকারি ম্যাসেজের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একাউন্ট থেকে টাকা অন্য নাম্বারে সেন্ড মানিতে নিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। এনিয়ে বিকাশ অফিসে গিয়ে কোনো ধরনের সহযোগিতাই পাচ্ছেনা সংশ্লিষ্ট প্রতারনার শিকার ভূক্তভোগীরা।