নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ার চাঞ্চল্যকর জিল্লুর ভান্ডারী হত্যা মামলা: তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ায় আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর জিল্লুর রহমান ভান্ডারী হত্যা মামলার তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন জিল্লুর রহমান ভান্ডারীর ছোট ভাই নিজাম উদ্দিন।

গত ১৮ আগস্ট আলোচিত এই হত্যা মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিলো। কিন্তু আসামি পক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সাক্ষ্য গ্রহণ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ২৬ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এদিকে সাক্ষী নিজাম উদ্দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হওয়াতে বিচারিক কাজ আরেকটি ধাপ এগিয়ে গেলো বলে মনে করেন মামলার অন্যতম সাক্ষী ইকবাল হোসেন।

মামলাটি তদারকি করার জন্য সাক্ষ্য গ্রহণের নির্ধারিত তারিখের ৩ দিন আগে সৌদি আরব থেকে এক প্রকার উড়ে এসেছিলেন তিনি।

বুধবার সাক্ষী দেওয়ার পর মামলার বাদী নিজাম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, এই মামলাটি পরিচালনা করতে গিয়ে আমি চারটি মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি। কিন্তু হাল ছেড়ে দেয়নি। নির্লোভ নিরহংকার বড়ভাই জিল্লুর রহমান ভান্ডারী মামলার সাক্ষী দিতে পেরে স্বস্তি বোধ করছি। কয়েক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম। তখন মনে ভয় ছিল, বড় ভাইয়ের হত্যা মামলাটিতে সাক্ষী দিতে পারবো কিনা! শেষ পর্যন্ত মামলাটিতে সাক্ষী দিতে পেরে কিছুটা দায়মুক্তি হতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।”

প্রসঙ্গত, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে রানিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয় গেটের সামনে ভিকটিম জিল্লুর রহমান ভাণ্ডারীকে আসামিরা এলোপাতাড়ি মারধর ও উপর্যুপরি গুলি করে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরে হাসপাতালে মারা যান জিল্লুর। এ ঘটনায় ২২ জানুয়ারি ভিকটিমের ছোট ভাই মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর সিআইডি এ মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ২০১৯ সালের ২৮ মে ভাণ্ডারী হত্যা মামলার ১৩ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেয় আদালত। এরপর এ মামলায় দুইজন সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে প্রথম সাক্ষী ইকবাল হোসেনকে আদালতে জিল্লুর খুনের মামলার দুই আসামি প্রকাশ্যে খুন করার হুমকি দেয়।

এ ঘটনার সাক্ষী ইকবাল নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তদন্ত করে হুমকির সত্যতা পাওয়ায় দুই আসামিকে অভিযুক্ত করে। হুমকি দেওয়ার ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলায় অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

চার্জশিটে থাকা এ মামলার ১৩ আসামির মধ্যে খোকন ও জসিম কারাগারে। সাত আসামি পলাতক রয়েছে। চারজন রয়েছে জামিনে।