রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধিঃ রাঙ্গুনিয়ার রূপা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণীর গলাকাটা লাশ বান্দরবান থেকে উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।
সোমবার (৯ আগস্ট) রাতে বান্দরবান সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত তরুণীর পিতা নুরুল ইসলাম।
যেখানে মো. কাজল (২৫) নামে রূপা আক্তারের এক কতিত প্রেমিককে আসামী করা হয়েছে। এরআগে গত ৭ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়ার সীমান্তবর্তী বান্দরবান সদর থানাধীন ২নং কোহালং ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামের জাহাঙ্গীর বাগ এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ধলিয়া পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম প্রকাশ বাঁশির মেয়ে।
নিহত তরুণীর ভাই মো. ওবাইদুল ইসলাম জানান, আমার বোনের সাথে পার্শ্ববর্তী বান্দরবান জেলার ডাকবাংলা বিহার পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. রকি মিয়ার ছেলে মো. কাজলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমাদের পরিবার সেই সম্পর্ক মেনে না নিয়ে অন্যত্র বিয়ে দিয়েছেন। কাজল আমার বোনকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে আমার বোনকে খুন করেছে।
সে জানায়, গত ছয় মাস আগে আমার বোনকে পার্শ্ববর্তী রাঙ্গামাটি জেলার রাইখালী ইউনিয়ন ৫নং খন্দখাটা ওয়ার্ডের মৃত লতিফুর রহমানের ছেলে মো. হায়দারের সাথে বিয়ে দিই। ৩০ জুলাই আমার বোন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। গত শনিবার সন্ধ্যায় আমার বোনের মোবাইলে একটি ফোন আসে। ওই ফোন পাওয়ার পর আমার বোন বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর ফিরে আসে নি। আমরা রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। রবিবার সকালে জানতে পারি আমার বোনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রূপার আকতারের স্বামী মো. হায়দার জানান, আমার বাড়ি থেকে গত ৩০ জুলাই বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায় আমার স্ত্রী। সে স্ত্রী ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। আমি স্ত্রীর প্রেমের বিষয়ে জানতাম না। তবে ঘটনা যারাই করুক আমি দোষীদের তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
বান্দরবান সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, রবিবার এলাকার মানুষ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক ঝোপের আড়ালে লাশটি দেখতে পায়। তাঁরা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। লাশের গলা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। পুলিশ আসামীকে ধরতে তৎপর রয়েছে।








