নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ার দুই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকার জয়

মুজিবুল হক হিরু এবং নুর উল্লাহ।

রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর ও স্বনির্ভর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা। মরিয়মনগর ইউনিয়নে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের মুজিবুল হক হিরু। তিনি ভোট পেয়েছেন ৮ হাজার ৬শত ১১ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. সেলিম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৪শত ভোট।

অন্যদিকে স্বনির্ভর ইউপি নির্বাচনে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুর উল্লাহ। তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৫শত ৪ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রহিম উদ্দিন চৌধুরী টেলিফোন প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭শত ২১ ভোট।

এদিকে ইউপি সদস্য পদেও এই দুই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছেন। এরমধ্যে মরিয়মনগরে প্রার্থী ছিল ৫৩ জন। ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৮০২ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছে মোহাম্মদ ইসমাইল (ফুটবল)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাহাঙ্গীর আলম পেয়েছে ৭৪৩ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৪০৯ ভোট পেয়ে এনামুল করিম সিকদার (তালা)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. ওমর ফারুক পেয়েছেন ৩৯৪ ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩০৫ ভোট পেয়ে মো. ওবাইদুল হক (ফুটবল)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. নুরুল আমিন পেয়েছে ৩০৩ ভোট। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩৪৮ ভোট পেয়ে সিরাজুল ইসলাম (বৈদ্যুতিক পাখা)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম পেয়েছেন ৩৪৫ ভোট। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩৭৬ ভোট পেয়ে শামসুল আলম (তালা)। তার নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন মো. নাছের উদ্দিন পেয়েছেন ১৬৯ ভোট। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ২৮৯ ভোট পেয়ে মো. বেলাল হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. হারুন রশিদ পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩০৯ ভোট পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম (মোরগ)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. জাফর উদ্দিন ও জেবর মুল্লুক দু’জনেই পেয়েছেন ১৮৫ ভোট। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ১৭২ ভোট পেয়ে মো. রেজাউল করিম (টিউবওয়েল)। তার নিকটতম প্রার্থী এমদাদুল ইসলাম পেয়েছেন ১৫৬ ভোট। এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩২২ ভোট পেয়ে এরশাদুর রহমান (মোরগ)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ২৬০ ভোট। এছাড়া মরিয়মনগর ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ২৪৮০ ভোট পেয়ে ইয়াছমিন আরা বেগম (বই)। তার নিকটতম প্রার্থী রুবী আক্তার পেয়েছেন ১৬৭৬ ভোট। ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ১২৭৬ ভোট পেয়ে রহিমা আক্তার (বই)। তার নিকটতম প্রার্থী নুর আয়শা বেগম পেয়েছেন ৭৫২ ভোট। এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ১৪৫৯ ভোট পেয়ে জয়তুন নুর বেগম (মাইক)। তার নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন ৬২৭ ভোট। স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের নির্বাচনে ইউপি সদস্য পদে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল। ১ নম্বর ওয়ার্ডে ২ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৪৯৬ ভোট পেয়ে মো. সেকান্দর (মোরগ)। তার নিকটতম প্রার্থী সনজিত কর্মকার পেয়েছে ৩১৮ ভোট। ২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩৩৮ ভোট পেয়ে নুরুল আবছার (মোরগ)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. মহসিন পেয়েছেন ২৫১ ভোট। ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩৮৮ ভোট পেয়ে রমেন্দ্র লাল দে (তালা)। তার নিকটতম প্রার্থী সুবিমল বিশ্বাস পেয়েছেন ২৬৮ ভোট। ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩৭৩ ভোট পেয়ে পেয়ে তাপস চক্রবর্ত্তী (বৈদ্যুতিক পাকা)। তার নিকটতম প্রার্থী প্রবীর সাহা পেয়েছেন ২৮৬ ভোট। ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ১৮৪ ভোট পেয়ে মো. বাদশা আলম (মোরগ)। তার নিকটতম প্রার্থী পেয়েছেন শামসুল আলম পেয়েছেন ১৮১ ভোট। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ৩০৪ ভোট পেয়ে অভিজিৎ দে (তালা)। তার নিকটতম প্রার্থী ত্রিবিদ কুমার দে পেয়েছেন ২৩৬ ভোট। ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ২৫০ ভোট পেয়ে মো. সেলিম (ফুটবল)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম পেয়েছেন ১২২ ভোট। ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ২০১ ভোট পেয়ে মো. আবদুল গফুর (মোরগ)। তার নিকটতম প্রার্থী মো. ইসমাইল সিকদার পেয়েছেন ১৪১ ভোট। এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে জয় পেয়েছে ২৫৩ ভোট পেয়ে তাপস সাহা (ফুটবল)। তার নিকটতম প্রার্থী প্রাঞ্জল সাহা পেয়েছেন ১৬৭ ভোট। এছাড়া স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়ায় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য পদে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ১১৫২ ভোট পেয়ে দিপ্তী কর্মকার (মাইক)। তার নিকটতম প্রার্থী শেলু আক্তার পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট। ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ১১২২ ভোট পেয়ে খুরশিদা বেগম (বই)। তার নিকটতম প্রার্থী সরবালা দে পেয়েছেন ৯২৮ ভোট। এবং ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে ১৪৪৩ ভোট পেয়ে জেরিনা আক্তার (বই)। তার নিকটতম প্রার্থী নুর নাহার বেগম পেয়েছেন ২৭৭ ভোট।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অরুন উদয় ত্রিপুরা নির্বাচনের এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

এদিকে এই দুই ইউনিয়নের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিকাল হতে হতে নির্বাচনে কেন্দ্রে ভোটারদের ভীড় কমে আসে। তবে শেষ পর্যন্ত কোন ধরণের সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচন শেষ হয়।