চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ড কাটাখালী এলাকার নুরুল ইসলাম। পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বাড়ির ছাদে বিষমুক্ত সবজি চাষাবাদ করে যাচ্ছেন তিনি।
শুধু বাড়ির ছাদেই নয়, বাড়ির আশেপাশে সর্বত্রই তার নানা প্রজাতির সবজি ও ফলমূলের চাষাবাদ। রয়েছে বাড়ির পেছনে দৃষ্টিনন্দন পুকুর। পুকুর পাড়েও রয়েছে নান প্রজাতির ফলমূলের গাছ। এভাবে নুরুল ইসলামের বাড়ি যেন এক টুকরো সবুজ উদ্যান।
সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার বাড়ির প্রবেশ করতেই অবাক হওয়ার মতোই অবস্থা। ১ তলা ভবনের উপরে ছাদে লাগানো পেপে গাছ! তাও আবার তুকায় তুকায় পেপেয় ভরপুর! রয়েছে সারি সারি ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো সহ নানা প্রজাতির সবজি বাগান। নুরুল ইসলাম নিজের বাড়ির ভবনের ছাদে তিনি শখের বসে গড়ে তুলেছেন সমৃদ্ধ এ বাগানটি। কি নেই তার বাগানে। নানা প্রজাতির ফল ও সবজি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের গাছে সমৃদ্ধ বাগানটি। দেখলে যেকোনো প্রকৃতি প্রেমীই আকৃষ্ট হবেন।
ছাদ বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবজির মধ্যে বেগুন, টমেটো, মরিচ, লাউ, কুমড়ো, পুঁই শাক, লাল শাক, কলমী শাক, সিম, মুলা, বিলাতী ও দেশী দনিয়া পাতা, পুদিনা, ঢেঁড়শসহ আরও অনেক ধরনের শাক-সবজি। প্রতিটি গাছেই ফলন এসেছে। এছাড়া বাড়ির চারপাশেও রয়েছে নানা প্রজাতির এমনিক বিলুপ্ত প্রজাতির সবজির আবাদ। রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির আম, জাম, পেয়ারা, লেবু, আমলকী, পেঁপে, বেল, আতা, কুলসহ আরও অনেক ধরনের ফল গাছ।
নুরুল ইসলাম জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে তাপমাত্রা বাড়ছে, প্রতিনিয়ত বাড়ছে দূষণ। আর এ বিপর্যয় রোধে ফাঁকা তপ্ত ছাদকে শীতল করতে এবং পরিবেশকে সহনীয় করতেই এ সবুজ বাগান। প্রকৃতি প্রেম থেকে শখের বসেই তিনি গড়ে তুলেছেন এ বাগান। বাড়ির ছাদে টব এবং ড্রামে পরম যত্নে বেড়ে উঠছে গাছগুলো। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে পরম যত্নে বছরে দুই মৌসুমে এই বাগান করে যাচ্ছেন তিনি। বাড়ির ছাদে দুই হাজার বর্গফুটের আয়তনের মধ্যে তার মূল বাগান। বাড়ির ছাদ ও আশেপাশে তার রয়েছে প্রায় ৩০ প্রজাতির সবজি ও ফলমূলের গাছ।
বাগানের পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি বলেন, ব্যবসার কাজের পর যেটুকু সময় পান তার অধিকাংশ সময় তিনি এ বাগানেই কাটান। বাগানের প্রত্যেকটা গাছকে তিনি নিজের সন্তানের মতোই যত্ন করেন। কোন ধরনের রাসায়নিক সার প্রয়োগ না করে নিজেই জৈব সার তৈরি করে তা ব্যবহার করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেই তিনি ড্রাম ও টবে গাছ লাগিয়েছেন। এতে তার ভবনের কোনো ধরনের ক্ষতি হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ছাদ বাগান শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, পরিবারের ভেজাল মুক্ত ফল ও শাক-সবজিরও যোগানের অন্যতম উৎস। এ বাগান থেকে পরিবারের সবজি ও দেশীয় ফলের চাহিদা মেটানোর পর আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও পাঠানো যায়। নুরুল ইসলামের ছোট ছেলে মো. ফাহিম। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি সামাজিক সংগঠন রাঙ্গুনিয়া ব্লাড ব্যাংকের একজন কো-এডমিন। পড়ালেখা ও সমাজিক এই কাজকর্মের ফাঁকে তিনিও বাবার গড়া এই বাগানে পরিচর্যা করেন।
তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ও বিকালে বাগানের মধ্যেখানে চেয়ার-টেবিলে বসে সতেজ বাতাস নিজের মন জুড়িয়ে যায়। সবার প্রতি নুরুল ইসলামের আহবান, দিন দিন ফসলি জমি কমে আসছে, কমছে সবুজ প্রকৃতি। বাড়ছে নগরায়ন। প্রকৃতিতে উষ্ণতা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। কৃষকরা বাণিজ্যিক ভাবে যে সবজি ফলিয়ে বাজারজাত করছে, তাতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব মোকাবেলায়, যাদের ভবন ও বাড়ির আশেপাশে পতিত জমি রয়েছে, তারা যেন এভাবে সবুজ বাগান গড়ে তুলে। এতে বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবারে বিষমুক্ত সবজির যোগান দেওয়া সম্ভব হবে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, নুরুল ইসলাম পেশাদার কৃষক নয়, তিনি সৌখিন ছাদ কৃষক। তার এই ছাদ বাগানে আমি নিয়মিত বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি। তার দৃষ্টিনন্দন ছাদ বাগান দেখলে যে কারোরই মন জুড়িয়ে যাবে।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে যারা এই ধরণের আবাদে আগ্রহ দেখায় তাদের সর্বাত্মক সাহায্য করা হয়ে থাকে। বাড়ির ছাদ বাগানকে সরকার উৎসাহিত করছে। এক্ষেত্রে উপজেলা কৃষি অফিস সবসময় এধরণের চাষাবাদে আগ্রহীদের পাশ রয়েছে।








