জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন সদ্য প্রয়াত রাঙ্গুনিয়ার প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সাদেকুন নূর সিকদার।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া সংসদীয় আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক পেয়েছিলেন তিনি।
তবে তৎকালীন ৮ দলীয় জোটের আসন ভাগাভাগির সমীকরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখিয়ে শ্রমিক নেতা মো. ইউসুফ’র পক্ষে তিনি নির্বাচন করেছিলেন৷
সাদেকুন নূর সিকদার ষাটের দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। সেসময় চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের রাজনীতিকে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী করতে যে কয়জন মেধাবী ছাত্রনেতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাদেকুন নূর সিকদার তাদের মধ্যে অন্যতম।
তিনি ১৯৬১ সালে রাঙ্গুনিয়া আদর্শ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মেট্রিকুলেশন পাশ করে চট্টগ্রাম কমার্স কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি।
১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর কমিটির সভাপতি ছিলেন আবু সালেহ (সাতকানিয়া)।
১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন অংশ নিতে গিয়ে লালদিঘী এলাকায় নির্মম পুলিশী নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সাদেকুন নূর সিকদার।
ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে এক সময়ে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭৪ সালে তিনি রাঙ্গুনিয়া থানা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৭৭ সালে থানা যুবলীগের সভাপতি হন। পরবর্তীতে তিনি দুদুবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাদেকুন নূর সিকদার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষা বিস্তারেও ছিল সাদেকুন নূর সিকদারের অসামান্য অবদান। তিনি ঐতিহ্যবাহী রাঙ্গুনিয়া মহিলা কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য ছিলেন। ছিলেন উপজেলা বিআরডিবি’র একাধিকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে।
গত শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ১৫ মিনিটে সাদেকুন নূর সিকদার চট্টগ্রাম নগরীর পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র ৩ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।
রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৫ টায় সৈয়দ বাড়ি জামে মসজিদ মাঠে তাঁর নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার প্রয়াত সাদেকুন নূর সিকদারের ছোট ভাই এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য কামরুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর জামাতা।
সাদেকু নূর সিকদারের মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়ার আওয়ামী পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাঙ্গুনিয়ার বর্ষিয়ান আওয়ামী লীগ নেতা সাদেকুন নুর সিকদারের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
তিনি শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, গত ৬০ বছর ধরে যেকজন আওয়ামী লীগ নেতা রাঙ্গুনিয়া আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে ভূমিকা রেখছিলেন তাঁদের মধ্যে সাদেকুন নুর সিকদার অন্যতম। তাঁর মৃত্যুতে রাঙ্গুনিয়া আওয়ামী লীগের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অনন্য অবদান রাখা সাদেকুননুর সিকদার বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন ত্যাগী নেতা ছিলেন। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তথ্যমন্ত্রী।

