নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় ৩’শ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নে ৩শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ বাগান মালিকদের। সরফভাটা খেলার মাঠ দখলমুক্তের নামে মৌরশি জায়গায় লাগানো এসব গাছ কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তারা। গাছ কাটার খবরে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাগান মালিকদের পক্ষে মোজাহেরুল হক চৌধুরী নামে এক বাগান মালিক রাঙ্গুনিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, একসময় সরফভাটায় একমাত্র খেলার মাঠ ছিল সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার সংলগ্ন পোড়ামোড়া নামক এলাকায়। প্রায় ১০ কানি আয়তনের এই খেলার মাঠটি মৌরশি সম্পত্তি দাবী করে ২০০৩ সালে দখল করে গাছ লাগিয়ে দিয়েছিল একাধিক বাগান মালিক। এরপর থেকে খেলার মাঠ দখলমুক্তের দাবী জানিয়ে আসছিল স্থানীয় ক্রীড়ামোদী জনতা। খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যখন নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছিল এরমধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে মাঠের সবগাছ কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় সরফভাটা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ও সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফীকে দুষছেন স্বয়ং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আহসান হাবীব।

তিনি বলেন, রাত ১০টার দিকে সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুল ইসলাম সরফীর ঘরে স্থানীয় ও বহিরাগতরা সংঘবদ্ধ হয়। এরপর রাত ১২টার দিকে তিনি ও বর্তমান চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় শতাধিক দুর্বৃত্ত দা, কিরিচ ও গাছ কাটার সরঞ্জাম নিয়ে মাঠের সবগাছ কাটা শুরু করে। বাগান মালিকরা খবর পেয়ে পুলিশকে ফোন করলে রাত ২টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের ধাওয়া করেন। এসময় দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। খেলার মাঠ প্রয়োজন, তবে জায়গার মালিকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে কারও ক্ষতি না করে মাঠ দখলমুক্ত করা যেতো বলে তিনি জানান।

নুরুল আবছার (৫৮) নামে স্থানীয় এক বাগান মালিক বলেন, “সম্পূর্ণ মাঠটি ১০ কানি আয়তনের। যেখানে ৬টি খতিয়ানে ৭৬০০ দাগের আন্দরে একাধিক মালিক রয়েছেন। যেখানে তিনিও ৫২ শতক জায়গার মালিক। এই জায়গায় তিনি অন্যান্যদের মতো বেলজিয়াম, একাশি, মেহগনি, ইউক্লিপটাস ও সেগুন গাছ লাগিয়েছিলেন। তবে রাতের আঁধারে এসব গাছ কেটে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কারা কেটেছে তিনি দেখেননি বলে জানান। তবে বর্তমান ও সাবেক দুই ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে শুনেছেন।”

রাতের আঁধারে কারা খেলার মাঠের গাছ কেটেছে জানেননা দাবী করে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যারা আমাকে ও সাবেক চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করছেন তারা বিকৃত মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। রাজনীতি খেলার মাঠের গাছ কেটে অপবাদ দিয়ে নয়, রাজপথে করা উচিৎ। তবে খেলার মাঠের জায়গাটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও টিলা শ্রেণির ভুমিটিকে যুগ যুগ ধরে তার পূর্ববর্তি চেয়ারম্যানরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রকল্প দিয়ে খেলার মাঠের উপযোগী করেছিলেন বলে জানান তিনি।

রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাহবুব মিল্কী কারা গাছ কেটেছে তা এখনো নিশ্চিত নয় জানিয়ে বলেন, রাতে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক গাছ কাটার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়, তার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যান। এঘটনায় বাগান মালিক মোজাহেরুল হক চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন বলে তিনি জানান।