নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ার ৬ ঈদ বাজার বন্ধের ঘোষণা

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া : রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সবচেয়ে জমজমাট ৬টি ঈদ বাজার বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সরকারের অনুমতির পরও করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতায় মানুষের জানমালের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তারা। তবে এসব বাজারে খোলা থাকবে ঔষধ সহ নিত্যপণ্যের দোকান। বাজারগুলো হল রাঙ্গুনিয়ার রাণীরহাট বাজার, ধামাইরহাট বাজার, রোয়াজারহাট বাজার, গোচরা বাজার, চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান ও দোভাষী বাজার।

শনিবার (৯ মে) বাজারগুলোর দায়িত্ব থাকা নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এদিকে উপজেলার সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার ১০ তারিখের পর বন্ধের সিদ্ধান্ত নেবে, শান্তিরহাট, পদুয়া রাজারহাট বাজার বন্ধে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা বৈঠক করছেন বলে এসব বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জানায়।

এই বাজার দুটিও বন্ধের ঘোষণা আসবে রোববার সকালে।

রাঙ্গুনিয়ার সর্ব উত্তরের বাজার রাণীরহাট। এই বাজারে রাঙ্গুনিয়া ছাড়াও ঈদে বাজার করতে আসেন পাশের রাঙামাটি জেলা, কাউখালী ও রাউজান উপজেলা থেকেও। সরকারি ঘোষণা প্রচারের সাথে সাথেই একদিনেই জমজমাট হয়ে উঠেছিল বাজারটি।

তবে শনিবার সকালে রাজানগর ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদারের মধ্যস্থতায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ জরুরী বৈঠক করে বাজার বন্ধের ঘোষণা দেন বলে জানান ব্যবসায়ী নেতা কামাল উদ্দিন চৌধুরী।

রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি বদিউল খায়ের লিটন চৌধুরী জানান, রোয়াজার হাট রাঙ্গুনিয়ার মধ্যভাগে অবস্থিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জমজমাট বাজার। এই বাজারে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ঈদে বাজার করতে আসে। তাই সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাজারের ব্যবসায়ীদের নিয়ে জরুরী বৈঠক করে রোয়াজারহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি।

সভার সিন্ধান্ত মোতাবেক রোববার থেকে থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ছাড়া সকল মার্কেট, কাপড়, জুতা ও কসমেটিক সামগ্রীর দোকান বন্ধ ঘোষনা করা হয়।

ধামাইরহাট ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল ইসলাম সেলিম জানান, ঈদের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ধামাইরহাটের ঈদ বাজার। নিত্যপণ্যের দোকান এই সিদ্ধান্তের বাইরে থাকবে। বাজারের যেসব ব্যবসায়ী এই আইন অমান্য করবে তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

গোচরা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জানান, ঈদের আগ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে রাঙ্গুনিয়ার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র গোচরা বাজারের ঈদ শফিং মার্কেট। ব্যবসায়ী সমিতির সকল কর্মকর্তাগণ বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন শনিবার।

কাচাবাজার, ঔষধ, মুদির দোকান খোলা থাকবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। সিদ্ধান্ত অমান্যকারী দোকানদারের বিরুদ্ধে অাইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ কাঞ্চন চৌধুরী জানান, চন্দ্রঘোনা বাজারে কাল থেকে সব দোকান বন্ধ থাকবে। শুধু খোলা থাকবে ঔষধ খাদ্যদ্রবের দোকান। সকল ব্যবসায়ীদের মৌখিক ভোটের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চন্দ্রঘোনা ব্যবসীয়া করোনা মোকাবেলাই তাদের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত।

চন্দ্রঘোনা ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর জানান, লিচুবাগান ঈদ বাজার বন্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান ছাড়া রোববার থেকে বন্ধ থাকবে অন্যসব দোকান। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এই সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানায়।

অন্যদিকে পদুয়া ইউনিয়নের রাজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আক্কাস মিয়া জানান, শনিবার বিকালে রাজারহাট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জরুরী বৈঠক করে ঈদ বাজার বন্ধের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার আনুষ্ঠানিক ভাবে তা মাইকিং করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে শান্তিরহাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবু তাহের জানান, বাজার বন্ধের ঘোষণা দিতে শনিবার রাতেই জরুরী বৈঠকে বসেছে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

রোববার থেকে বন্ধ হতে পারে শান্তিরহাটের ঈদ বাজার।

অন্যদিকে ঈদ বাজার বন্ধের ব্যাপারে সরফভাটা ক্ষেত্রবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফোরকান জানান, সরকারি সিদ্ধান্ত ১০ তারিখ থেকে খুলবে ঈদ বাজার। ১০ তারিখের পর নতুন কোন ঘোষণা আসছে কিনা, সেটার উপর নির্ভর করে আমরা অপেক্ষা করছি। মোটামোটি ১০ তারিখের পরই মূলত আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।