রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ায় নিশা আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ফুলবাগিচা গাবতল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছে গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের পরিবারের দাবী তাকে পরিকল্পীতভাবে প্রথমে মারধর এবং পরে জোরপূর্বক বিষপানে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত নিশা আক্তার রাজানগর ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড সাদ্দাম পাড়া এলাকার আকতার হোসেনের মেয়ে।
এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করলেও পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করছে অভিযোগ নিহতের পরিবার।

নিহতের পিতা মো. আকতার হোসেন বলেন, “দক্ষিণ রাজানগর ইউনিয়নের ফুলবাগিচা গ্রামের মো. মুছার ছেলে প্রবাসী আবুল কালামের সাথে সামাজিকভাবেই ২০১৬ সালে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ৩ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। যৌথ পরিবারে একসাথে শ্বশুর-শ্বাশুড়ি, ২ ভাসুর ও তাদের স্ত্রী এবং ১ দেবরসহ সবাই একসাথে থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই তারা আমার মেয়েকে কথায় কথায় গালিগালাজ করাসহ নানাভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছে। গত ২১ জুন মুঠোফোনে তারা জানায় আমার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ। আমরা গিয়ে শুনি নিশা বিষ খেয়েছে। তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া হলে দীর্ঘ ১৮ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে সে অবশেষে গত ৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার কাছে জানতে পারি, ঘটনার দিন সকালে ফুলবাগিচা গাবতল জামে মসজিদের পেছনে তুচ্ছ বিষয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আমার মেয়েকে চুল ধরে টেনে হিচড়ে এলোপাথারি মারধর করে এবং এই ঘটনায় তার বাম হাতের আঙ্গুল রক্তাক্ত হয়ে যাওয়াসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এই ঘটনায় আমার মেয়ে আইনের আশ্রয় নিবে বললে তারা সবাই একত্রিত হয়ে নিশোকে জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে দেয়।”
এই বিষয়ে নিহত গৃহবধূর ভাসুর মো. শাহ আলম দাবী করেন, আমার ভাইয়ের সাথে প্রবাসে মুঠোফোনে কথা কাটাকাটির জেরে রাগারাগি করে সে আত্মহত্যা করেছে।
তারা যেসব অভিযোগ করছেন তার সবকিছুই সাজানো বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে নিহত গৃহবধূ বিষপানের পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানান নিহতের পরিবার। মারা যাওয়ার পর লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাপের বাড়ি এলাকার কবরস্থানে গৃহবধূর লাশ দাপন করা হয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হলেও পুলিশ গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
এই ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মো. মাহবুব মিল্কী বলেন, “তারা ইতিপূর্বে কোন অভিযোগ দেয়নি। মামলা করার জন্য একবার আসলেও তাদের এজহার নিয়ে আসার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু তারা এরপর আর আসেনি। তবে তারা এলে ঘটনাটি তদন্তপূর্বক পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








