নিউজটি শেয়ার করুন

রাঙ্গুনিয়ায় ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে কপাল পুড়ছে বোরো চাষিদের

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: প্রায় ৫ একর জমিতে ধান চাষ করেছেন রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম পোমরা এলাকার কৃষক মঈন উদ্দিন। তার জমির ধান গাছগুলো ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিলো। কিন্তু ধানের শীষ গুলো সবুজ থেকে লালচে বর্ণ ধারণ করতে থাকে। অনেক ধান গাছ কুঁকড়ে বেঁকে যায়। প্রায় ২ একর জমির ধান গাছের এরকম অবস্থা। এ সমস্যা দেখা দেওয়ার পর থেকেই কৃষক মঈন উদ্দিন জমিতে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করলেও ধানের কোনো উন্নতি চোখে পড়ছে না। একই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে অন্য জমির ধান গাছ গুলো। ধান গাছের এ রোগের নাম ‘নেক ব্লাস্ট’। কোথাও কোথাও এ রোগটির পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলপি) রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতি প্রসঙ্গে কৃষক মঈন উদ্দিন জানান, নেক ব্লাস্টে আক্রান্ত হওয়ায় তা ওষুধ প্রয়োগেও তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ২ একর পরিমাণ জমির টমেটো ও মরিচ চাষাবাদও নানা রোগের প্রাদুর্ভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। দায়িত্বরত কৃষি কর্মকর্তারা মোবাইলে নানা সমস্যার সমাধান দিলেও মাঠ পর্যায়ে উনাদের তেমন পাওয়া যায় না। সরকারিভাবে আমাদের সাহায্য করা না হলে তবে সব হারিয়ে পথে বসতে হবে বলে তিনি জানান। শুধু মঈন উদ্দিনের কৃষি মাঠেই নয়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি বোরো মৌসুমে লাগানো বিভিন্ন জাতের ধানের জমিতে কম বেশি এসব রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে কৃষি মাঠেও।

উপজেলার অধিকাংশ কৃষি মাঠে এবার প্রয়োজনীয় উপকরণ, সার, বীজ সহ সেচের অভাবে চাষাবাদ হয়নি। এরউপর যেটুকু চাষাবাদ হয়েছে তাতেও প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে নানা রোগের। এতে ভবিষ্যতে ফলন বিপর্যয় হয়ে বাজারে এর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দূর থেকে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধুই সবুজের সমারোহ। কিন্তু খেতের কাছাকাছি গেলেই ধান গাছের বাস্তব চিত্র চোখে ধরা দেয়। খেতের পর খেত ধান গাছের শীষ লালচে বর্ণ ধারণ করেছে। শীষ শক্ত হয়ে হেলে পড়ছে। চট্টগ্রামের শস্যভান্ডার খ্যাত রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিল, পোমরা বটতল মাঠ, পদুয়া সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে এবং একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে চলতি মৌসুমের বোরো ধান চাষ সম্পর্কে এমন এসব তথ্য জানা যায়।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, ওষুধ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছে না। ভয়ে অনেক কৃষক ভালো ধান খেতেও আগাম সতর্কতা হিসেবে ওষুধ প্রয়োগ করছেন। কিন্তু কোন ভাবেই খেতের ফসল ভালো করতে পারছেন না তারা। এ রোগে ধান নয় যেন কপাল পুড়ছে বোরো চাষিদের-যোগ করেন তারা। গোচরা এলাকার কীটনাশক ঔষধের ব্যবসায়ী আছিুফুর রহমান জানান, সম্প্রতি নেক ব্লাস্ট রোগের ঔষধের জন্য কৃষকরা দোকানে ভীড় করছেন। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ দিয়ে সহযোগিতা করছি। তবে চাহিদার তুলনায় করোনা ভাইরাসের কারণে পর্যাপ্ত ঔষদের যোগানও তেমন নেই বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান লাগানো হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রক ছিল ৭ হাজার ৪’শ হেক্টর। এরমধ্যে ব্রি ধান ২৮, ২৯, পাজাম ও কিছু হাইব্রিড জাতের ধান রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রকিবুল আলক জানান, দিনের বেলায় বাড়তি তাপমাত্রা থাকছে। রাতে গিয়ে তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে। তাপমাত্রার সমন্বয় না থাকায় এসব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। অপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল খালেক জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের রোগ দমনে নানা ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লাটিপো ও টুপার নামে দু’টো ওষুধ মাত্রা অনুযায়ী প্রয়োগ করতে বলা হচ্ছে। উপজেলার সব উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা করোনা ঝুঁকির মধ্যেও মাঠে থেকে তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার জানান, ‘নেক ব্লাস্ট রোগ সহ বিভিন্ন রোগের হাত থেকে ধান খেত বাঁচাতে আমরা মাঠ পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা করছি। ইতিমধ্যে গুমাইবিল সহ অনেক জায়গায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আশা করছি, অন্যান্য স্থানেও দ্রুত এটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’