রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : রাঙ্গুনিয়ায় ফজল করিম (১৬) নামে এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন তার পিতা মো. খাইরুল বশর।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। ছেলেকে পরিকল্পীতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে দাবী করে মামলাটি দায়ের করেন তিনি। মামলায় চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউপি সদস্য আবদুল মালেক (৩৮) সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলার এজহার সুত্রে জানা যায়, মামলার বাদী চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের পূর্ব চন্দ্রঘোনা নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মো. খাইরুল বশরের দুই ছেলে মো. রেজাউল করিম (১৮) ও মো. ফজল করিম (১৬) এর সাথে বিভিন্ন বিষয়ে একই ইউনিয়নের মো. নজরুল ইসলাম (৪৩), তার ছেলে নাঈম (১৯), মো. বিজয় (২০), সাঈদুল ইসলাম ফাহিম (২২) এবং বুইজ্জের দোকান এলাকার আবু তাহেরের ছেলে মো. বিজয়ের (২০) সাথে বিরোধ চলে আসছিল এবং এই নিয়ে প্রায়সময় ঝগড়া-বিবাদ হতো।
গত ১৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে প্রতিপক্ষরা বাদীর দুই ছেলে রেজাউল করিম ও ফজল করিমের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারাত্মক যখম করে। এই ঘটনার মীমাংসার কথা বলে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে খাইরুল বশরের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ও খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মালেক।
পরবর্তীতে সৃজিত আপোষ নামায় টাকা নিলেও তা ষ্ট্যাম্পে উল্লেখ করেননি এই ইউপি সদস্য। অন্যদিকে তার ইন্ধনে উল্টো মিথ্যা চিকিৎসাপত্র বানিয়ে খাইরুলের দুই ছেলের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
বিষয়গুলো নিয়ে বিবাদীদের কাছে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং একপর্যায়ে পরিকল্পীতভাবে রাতের আঁধারে খাইরুলের ছোট ছেলে ফজল করিমকে হত্যা করে।
এই বিষয়ে খাইরুল বশর জানান, “আমার ছেলেদের হত্যা করতে তারা নানাভাবে পায়তারা চালাচ্ছিল। এমনকি আমার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের সামনে তারা একটি ঘরও ভাড়া করে থেকেছে। গত ২৫ জুন রাতে আমার ছেলে প্রতিদিনের মতো দোকানে ঘুমাতে গেলে সেখানে পরিকল্পীতভাবে তাকে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। সকালে আমরা তার মৃতদেহ দেখতে পায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এরপর ঘটনার দিন থেকেই বিবাদীরা ওই ভাড়াঘর ছেড়ে চলে যায়।”
টাকা নেওয়া ও মামলায় আসামী করার বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আবদুল মালেক বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার খাইরুল বশর ও নজরুল ইসলামের ছেলেদের সাথে বিভিন্ন বিরোধে আমি নিশ্বার্থভাবে সহযোগিতা করেছি। তাদের মধ্যে মীমাংসা করারও চেষ্টা চালিয়েছি। এক মীমাংসা বৈঠকে খাইরুল বশর ২৫ হাজার টাকা জরিমানা দেয় নজরুলকে। আমি কারও কাছ থেকে এক কাপ চা’ও পান করিনি। আমাকে প্রতিহিংসাভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
হত্যা মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবি মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, “মহামান্য আদালত মামলাটি আমলে নেন এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।”








