রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ায় নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে দুইদিন ধরে এক কৃষক নিখোঁজ রয়েছেন। উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড হাজীরীখীল গ্রাম দিয়ে কর্ণফুলী নদীর গোদার মুখ এলাকা থেকে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন।
এরপর মাইকিং সহ অনেক খোঁজাখুজি করেও মঙ্গলবার (২ জুন) পর্যন্ত তাকে পাওয়া যায়নি। তার নাম মো. হোসেন (৬২)। তিনি ওই গ্রামের আহমদ ছৈয়দের ছেলে এবং পেশায় একজন কৃষক। তাকে উদ্ধারে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ডুবুরি দল আনা হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আলমগীর হাছান সিকদার।
তিনি বলেন, নিখোঁজ হোসেন নদীর পাড়ে নানা সবজির চাষাবাদ করেছেন। সোমবার সকাল ৮টার দিকে সবজি খেতে পরিচর্যার জন্য যাওয়ার সময় নদীতে মাছ ধরার বড়শিও সাথে নিয়ে যান। নদীতে বড়শি ফেলে তিনি খেতে কাজ করছিলেন। এই অবস্থায় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার স্ত্রী তার জন্য ভাত নিয়ে গিয়েছিল। এসময় তিনি নদীড়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরছিলেন। তাকে ভাত খাইয়ে চলে আসার পর দুপুর ১টার দিকে ওই স্থানে তার শার্ট, সিগারেটের প্যাকেট, মাথার টুপি দেখতে পেলেও তাকে আর দেখেনি স্থানীয়রা। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে রাত পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরাতে তাকে খোঁজাখুজি শুরু করে তার পরিবার। এই সময় নদীর পাড়ে গিয়ে তার শার্ট-টুপির সাথে বড়শির ছিপটিও যথাস্থানে রাখা ছিল এবং তার সাথে সামান্য পরিমাণ সুতা বাঁধা ছিল বলেও জানা যায়। এরপর থেকে নৌকা যোগে কর্ণফুলী নদীর কালুরঘাট ব্রীজ থেকে রাঙ্গুনিয়ার শিলক এলাকা পর্যন্ত মাইকিং করা সহ খোঁজ চালালেও তাকে আর পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ হোসেনের ছোট ভাই মো. সফি জানায়, তার বড় ভাইয়ের পরিবারে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। নিখোঁজ হোসেনকে খুঁজে পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহ সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা লিটন হাওলাদার জানায়, আমরা সোমবার দুপুরের দিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। নিখোঁজ স্থানে কর্ণফুলী নদীর সাথে পাহাড়ের ঢালু রয়েছে। ওই স্থানটি খুব গভীর এবং পানির তীব্র ¯্রােত রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের ষ্টেশন থেকে অভিজ্ঞ ডুবুরি দল আনা হচ্ছে। তারা রাতে কিংবা সকাল থেকে তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করবে।

