জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: রাস্তায় পড়ে থাকা একটি টাকার বান্ডিল কুড়িয়ে পান এক ব্যক্তি। যেখানে ছিল মোট ১ লাখ টাকা।
তিনি টাকাগুলো নিজের কাছে রেখে না দিয়ে প্রকৃত মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
বুধবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাণীরহাট বাজারে এমন ঘটনাই ঘটেছে।
নির্লোভী ও সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখানো মানুষটির নাম মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রাজঘাটাকুল এলাকার মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ছেলে।
তিনি টাকাগুলোর প্রকৃত মালিক উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের মো. কামাল উদ্দিনের হাতে রাণীরহাট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের মধ্যস্থতায় ফিরিয়ে দেন।
জানা যায়, কামাল উদ্দিন রাঙ্গামাটিতে ব্যবসায় করেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেল যোগে রাঙামাটি যাওয়ার পথে তার সাথে থাকা ১ লাখ টাকার একটি বান্ডিল অজ্ঞাত স্থানে পড়ে যায়। অনেক খোজাখুজি করেও তিনি টাকাগুলো না পেয়ে তার বন্ধু রাণীরহাট কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরীকে বিষয়টি জানান।
কামাল চৌধুরী বিষয়টি শুনে তার বন্ধুর টাকা হারানোর বিষয়টি ফেসবুকে পোষ্ট করেন।
অন্যদিকে হারিয়ে যাওয়া ব্যাগভর্তী সে টাকা মগাইছড়ি সড়কে কুড়িয়ে পায় সাইফুল ইসলাম। তিনি ফেসবুকে দেওয়া পোষ্ট দেখে কামাল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করেন। অবশেষে কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির কামাল উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যস্থতায় বুধবার দুপুরে টাকার প্রকৃত মালিক ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিনের হাতে কুড়িয়ে পাওয়া টাকাগুলো ফিরিয়ে দেন সাইফুল।
এতোগুলো টাকা কিভাবে রাস্তায় ফেলে গেলেন প্রশ্নে ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘রাঙামাটির কাউখালীতে ব্যবসায়ীক কাজ শেষে রাণীরহাট থেকে রাঙামাটি শহরে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার পথে পড়নের কোর্ট থেকে টাকা গুলো অজ্ঞাত স্থানে পড়ে যায়। রাস্তায় অনেক খোঁজাখুজি করেছি। কিন্তু কোথাও খুঁজে পাইনি। ’
তিনি আরও বলেন, টাকাগুলো এভাবে ফিরে পাব ভাবিনি। আজ সাইফুলের মতো মহৎপ্রাণ মানুষ আছে বলেই আমি তা ফিরে পেয়েছি।
এ ব্যাপারে রাণীরহাট কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ব্যবসায়ী কামাল আমার বন্ধু। তার টাকাগুলো হারিয়ে যাওয়ার পর এই নিয়ে ফেসবুকে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম। সেটা দেখেই টাকাগুলো কুড়িয়ে পেয়ে সাইফুল ফিরিয়ে দিয়েছে। সাইফুলের সততায় আমরা মুগ্ধ। তার মহানুভবতার পুরস্কার আর্থিক মুল্যমানে না হলেও আল্লাহর কাছে বড় কিছু পাবেন তিনি।
এদিকে সততা ও লোভহীনতার দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পেশায় আমি একজন বাঁশ ব্যবসায়ী। টাকাগুলো সড়কে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। চাইলে টাকাগুলো আমি রেখে দিতে পারতাম। কিন্তু যে টাকার মালিক আমি নই তা আমার জন্য হালাল নয়। জাহান্নামে যাওয়ার চেয়ে এ টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেয়াই অনেক শ্রেয়। আর এটা ছিল আমার নৈতিক দায়িত্ব।’








