রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: লকডাউন মেনে চলতে বাধ্য করতে রাঙ্গুনিয়ায় লকডাউনের চতুর্থ দিনেও কঠোর অবস্থান ছিল প্রশাসন। উপজেলার বিভিন্ন প্রবেশমুখে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চৌকি বসিয়েছেন। রাস্তায় বের হলেই মানুষকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে কিংবা ভ্রাম্যমাণ আদালতের হাতে ঘুনতে হয়েছে জরিমানা।
রোববার (৪ জুলাই) সকাল থেকেই দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী হাকিম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজীব চৌধুরী। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় তিনি ৭টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। এসময় র্যাব-৭ এর একটি দল আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
এভাবে গত চারদিনে রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। চারদিন ধরেই সড়কে পুলিশের বিশেষ টহল দল, উপজেলা প্রশাসনের দুটি ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেট দল এবং সর্বশেষ র্যাবের টহল দলও রাঙ্গুনিয়ায় লকডাউন কার্যকরে কাজ করছে।
তবে প্রশাসনের তৎপরতায় মূল সড়ক কেন্দ্রিক এলাকায় কঠোর লকডাউন পালিত হলেও উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জের অলিগলিতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র।
রোববার (৪ জুলাই) বিকালের দিকে উপজেলার কোদালা চা বাগান এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখানে সাধারণ মানুষ আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দূর দূরান্ত থেকে মোটর বাইকে ছুটে এসেছে মানুষ। এমনকি অনেককে পরিবার নিয়েও ঘুরতে দেখা গেছে। ঘুরতে আসা এসব মানুষের মাঝে মাস্ক তো দূরের কথা স্বাস্থ্যবিধিরও বালাই ছিল না।
একই অবস্থা দেখা গেছে, শিলক ইউনিয়নের বুচক্র হাটে গিয়েও। বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট ছিল খোলা। আপন মনে যে যার মতো করে বসে আড্ডা মারছেন। লকডাউন কার্যকরে এসব স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এলে দৌড়ে পালালেও, উনারা ফেরত গেলে আবারও একই অবস্থা দেখা যায়। খবর নিয়ে জানা গেছে লকডাউনের চতুর্থদিন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের হাট-বাজার ও অলিগলিতে একইভাবে লকডাউন না মেনে ঘুরাঘুরি করেছে মানুষ।
এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান বলেন, লকডাউন কার্যকরে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমনকি জরিমানাও করা হচ্ছে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা মোকাবেলা ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষকে নিজে থেকেই সচেতন হতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।









