রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: লকডাউনের সপ্তম দিনের সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চলাচল বেড়ে গেছে। বেড়েছে লোক সমাগমও। মাঠে রয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা।
তারা উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
যেখানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সক্রিয় সেখানেই লকডাউন কার্যকর হচ্ছে। তারা সরে যেতেই ফের জটলা পাকিয়ে আসে জনতা।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও বেড়েছে মানুষের আনাগোনা।
বিভিন্ন দোকানপাটে গভীর রাত পর্যন্ত চলেছে বেচাকেনা। চায়ের দোকানে বসে আড্ডা মারতেও দেখা গেছে। যেখানে স্বাস্থ্যবিধি ছিল সম্পূর্ণ উপেক্ষিত।
লকডাউনের সপ্তম দিনে বুধবার (৭ জুলাই) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

গোডাউন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশের তল্লাশী দল বসে আছে সড়কের একপাশে। স্বাভাবিক ভাবেই চলছে গাড়িসহ সাধারণ মানুষ৷
এসময় এক পুলিশ কর্মকর্তা বললেন , “ভাই পরিস্থিতি বড় জটিল। কঠিন জীবন জীবীকার সমন্বয় করেই আইন প্রয়োগ করতে হবে।”
শান্তিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. সেলিম জানান, চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান থেকে গোচরা চৌমুহনি আসতে বেশ কয়েকবার গাড়ি বদলাতে হয়েছে। যেখানে প্রশাসনের তল্লাশি চলেছে তার আগে গাড়ি থেকে নেমে যেতে হয়। হেঁটে পেরিয়ে কিছুদূর এসে আবার গাড়ি নিতে হয়েছে। অনেকে তো দূর থেকে তল্লাশি কিভাবে করছে সেটা দেখতেই ভীড় করেছেন।
সিএনজি অটোরিকশা চালক নুরুল আজিম মনু বলেন, আয়ের মাধ্যমতো একটাই। এভাবে সাতদিন বসে থাকলে পেট চলবে কিভাবে। উপজেলার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রথম থেকেই স্বাভাবিকভাবেই যানবাহন চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব চৌধুরী বলেন, “জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাঁরা বাইরে বের হচ্ছেন তাঁদের সচেতনতার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা ও মামলা করা হচ্ছে।”
এদিকে লকডাউন উপেক্ষাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলায় উপজেলায় বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ।
বুধবার রাঙ্গুনিয়ায় ৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। চলতি মাসের এই ৭ দিনে ৫৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এই নিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২৩ জনে। সুস্থ হয়েছেন ৪৯০ আর মারা গেছেন ১৪ জন।
এ পর্যন্ত রাঙ্গুনিয়ার ২ হাজার ৮৪০টি নমুনা পরীক্ষায় এই ফলাফল পাওয়া গেছে।








