রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি: রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটায় পাঁচ মামলার আসামী সন্ত্রাসী মো. মফিজ (৩৮) খুনের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার বাদি হতে কেউ রাজি না হওয়ায় অবশেষে থানার এসআই বিল্লাল হোসেন বাদি হয়ে শনিবার (১০ এপ্রিল) রাতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।
পুলিশ অনেক চেষ্টা করেও পরিবারের কাউকে মামলার বাদি হতে রাজি করাতে পারেননি বলে জানান থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মিল্কি।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
মামলায় পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নিহত মফিজের প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের তোফায়েল ও কামাল সহ চিহ্নিত পাঁচজনকে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে।
সন্ত্রাসী তোফায়েল ও কামাল একই এলাকার আবুল কালাম প্রকাশ আবুইল্ল্যার ছেলে। হত্যা মামলাটি তদন্ত করবেন থানার এসআই মাহাবুব হোসেন।
শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে সরফভাটা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড গঞ্জম আলী সরকার বাড়ির আব্দুর ছেলে মো. মফিজকে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ তোফায়েল ও কামালের নেতৃত্বে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ঘরে ঢুকে প্রথমে মারধর করেন। এরপর পালিয়ে যাবার সময় তোফায়েল ও কামাল পরপর দুটিগুলি করে হত্যা নিশ্চিত করেন। এরআগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মফিজের ঘরে দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে কয়েকজন মেহমান আসে।
মফিজ এসময় ঘরে মেহমানদের নিয়ে তরমুজ খাচ্ছিলেন বলে স্ত্রী লাভলি আকতার জানান।
ঘরে আসা মেহমানরা মফিজের বন্ধু হলেও তিনি চিনেননা দাবী করে লাভলি আকতার বলেন, একই এলাকার সন্ত্রাসী কামাল ও তার ভাই তোফায়েলসহ কয়েকজন যুবক প্রথমে ঘরে ডুকে মফিজকে মারধর করেন। এসময় মফিজ পালিয়ে গেলে তোফায়েল ও কামাল ধাওয়া করে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে মামলা কেন করছেননা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে একই সন্ত্রাসীরা আমার ভাসুর প্রবাসী ইদ্রিছকে গুলি করে হত্যা করেন। মামলা করেও কোন বিচার পায়নি। তারা প্রকাশ্যে ঘুরছে, একাধিক খুনের ঘটনাও ঘটিয়েছে। এবার আমার স্বামীকেও হত্যা করলো। আমার তিনটি মেয়ে, আমাদের নিরাপত্তা কই ?
স্থানীয় ব্যবসায়ি নুরুল করিম জানান, মধ্যম ও জঙ্গল সরফভাটা এলাকায় এক শ্রেণীর আধিপত্য বিস্তারকারী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কয়েকবছর ধরে। তারা পাহাড়ে অবস্থান করে এলাকার মানুষের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেয়া, গরু চুরি, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত বিবদমান কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে জিম্মি হয়ে আছে এই এলাকার মানুষ।
তিনি বলেন, তারা অপরাধ সংগঠিত করেই পাশের পাহাড়ে ডুকে যান। এরপর পাশের বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলায় গিয়ে অবস্থান করেন।
রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুব মিল্কি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলাটি রুজু করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানান।








