বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা দিয়ে ‘বিজয় ফুল’ বানানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে বিজয় ফুল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তাই স্কুলে স্কুলে বিজয় ফুল তৈরির শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছে স্কুল পর্যায়ে প্রতিযোগিতায়। তাদের মধ্য থেকে একজন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিবে।
এ নিয়ে প্রতিটি স্কুলে শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম প্রতিযোগিতা চলেছে। কে করবে সবচেয়ে সুন্দর বিজয় ফুলটি। এই নিয়ে তাদের মাঝে দেখা গেছে চরম উত্তেজনা।
সরেজমিনে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিশুরা শ্রেণী কক্ষে কাচি দিয়ে সবুজ, সাদা ও হলুদ পোস্টার কাটাকাটি করতে ব্যস্ত। কেউ কেউ ব্যস্ত আইকা গাম দিয়ে কাগজগুলো ভাঁজ করতে। কারও হাতে যেন সময় নেই। সবাই দক্ষ চিত্র শিল্পীর মতো নিপুন হাতে গড়ছে তার কীর্তি। কিছুক্ষণ পরই দেখা গেল চমৎকার চমৎকার শাপলা ফুল তৈরি করে ফেলেছে শিশুরা। এ যেন শিশুদের মাঝে বিজয়ের হাঁসি।
আধুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “বিজয় ফুল” তৈরি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকারী মেহেনুর হক ইশরা জানায়, এমন একটি প্রতিযোগিতার আয়োজনে সে দারুণ খুশি। প্রথমে বিদ্যালয়ের স্যারেরা এ ফুলটি তৈরির নিয়ম শিখিয়েছেন তাদের। নিয়ম শিখে স্কুল পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম হয়েছে সে। আগামী বৃহস্পতিবার উপজেলা পর্যায়ে অংশ নেবে সে। তাই প্রতিযোগিতায় যেন ছিটকে না পড়ে সেখানেও প্রথম হতে পারে সেই লক্ষে প্রতিদিন এ ফুলটি তৈরির কাজ করছে সে।

সরফভাটা ইউনিয়নের ভূমিরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকারকারী শিক্ষার্থী সামিয়া সুলতানাও বললেন একই কথা। সেও স্কুল পর্যায়ে প্রথম হলেও উপজেলা পর্যায়েও প্রথম হয়ে অংশ নিতে চান জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘বিভিন্ন আঙ্গিকে শাফলা ফুল তৈরির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রথমে শেখানোর পর তারা নিজেরা স্কুল পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। সেখানে প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী অংশ নেবে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়। এই নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের মধ্যে চরম উৎসাহ দেখা গেছে।’
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহির উদ্দিন বলেন, ‘বিজয় ফুল তৈরি প্রতিযোগীতা ও বিজয় ফুল উৎসব কর্মসূচির আওতায় উপজেলার শিক্ষার্থীরা একক ভাবে বিজয় ফুল তৈরী, গল্প রচনা, কবিতা রচনা, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাংকন ও একক অভিনয় এবং দলগত ভাবে দেশাতত্মবোধক সংগীত ও জাতীয় সংগীত প্রতিযোগীতায় অংশ নিবে। আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগীতা। উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়ার আগে স্কুলে স্কুলে উপজেলার ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৩৩ হাজার ৯৫২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীতায় গ্রুপভিত্তিক প্রথম স্থান অধিকারীগণ উপজেলা পর্যায়ে অংশ নেবেন।
এদিকে মাধ্যমিক পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাও এই ধরণের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে উপজেলার ৪১বিদ্যালয়, ৯টি কলেজ ও ১৪টি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বুধবার (৩০ অক্টোবর) উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।
উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিযোগীতায় উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে বলে জানান মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম চৌধুরী।







