রঙিন কাগজ, বেলুন দিয়ে স্কুল প্রাঙ্গণ সজ্জিত করে উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাররা। স্কুলের দেওয়ালে লাগানো রয়েছে প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি সম্বলিত পোস্টার।
ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার, ভোট কেন্দ্র, নির্বাচন কমিশনার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং এজেন্ট সবই আছে। ভোটাররা সারিবদ্ধভাবে ভোট দিচ্ছে। প্রার্থীরাও কাতর হয়ে ভোটারদের কাছে ভোট খুঁজছেন।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মুরাদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এই দৃশ্য দেখা যায়।
জাতীয় সংসদ কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দৃশ্য নয় এটি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্টস কাউন্সিল’ নির্বাচনকে ঘিরে এই আয়োজন বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিলি রাণী বড়ুয়া।
নির্বাচনে ভোট গ্রহণ, ভোটাধিকার প্রয়োগ ও আইনশৃঙ্খলা কাজে নিয়োজিত সবাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এমনকি বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবেও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে শিক্ষার্থীদের। শুধু এই স্কুলেই নয়, উপজেলার ১৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে “স্টুডেন্টস কাউন্সিল” নির্বাচন।
জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার ১৫০টি স্কুলে একযোগে রবিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্টুডেন্ট কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে এসব স্কুলের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর ১৮ হাজার ৬৭০ জন পরীক্ষার্থী নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ৭ জন প্রতিনিধির সমন্বয়ে এক বছরের জন্য এই ছাত্রপরিষদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত হয়। প্রাথমিক স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্রের চর্চা, অন্যের মতামতের প্রতি সহিষ্ণুতা ও শ্রদ্ধা, শিক্ষকদের সহায়তা, শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও ঝরে পড়া রোধে সহযোগিতা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কর্মকান্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতসহ নানা বিষয়ে সম্পৃক্ত করতে এ নির্বাচন বলে জানায় সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লায়লা বিলকিস জানান, “অধিদফতরের নির্দেশনায় প্রতিবছরের ন্যায় এ স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেখানে নির্বাচন কমিশন, প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং শৃঙ্খলার দায়িত্ব স্ব স্ব স্কুলের শিক্ষার্থীরাই পালন করেছে। প্রত্যেক স্কুলের ৩য় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে।”
মুরাদের ঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ সভাপতি বদিউল খায়ের লিটন চৌধুরী বলেন, “প্রাথমিক স্তর থেকে গণতন্ত্রের চর্চা সম্পর্কে অবহিত করতে এ নির্বাচন ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করবে।”

