দরজায় কড়া নাড়ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
রাঙ্গুনিয়ার ১৫৭টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। এসব মণ্ডপের প্রতিমাগুলোতে শেষ তুলির আঁচড় লাগাচ্ছেন শিল্পীরা। কোনো মণ্ডপে শেষ হয়েছে মাটির কাজ। আবার কোথাও প্রতিমাগুলো রঙিন করার কাজে ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা। তুলির আঁচড়ে সুন্দর করে তোলা হচ্ছে দুর্গা, গণেশ, কার্তিক ও মহিষাসুরের প্রতিমা।
মন্দির সাজসজ্জায়ও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগরসহ স্থানীয়রা।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সুত্রে জানা যায়, আগামী ৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়ে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হবে শারদীয় দুর্গাপূজা।
পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠেয় পূজায় রাঙ্গুনিয়ার অর্ধ লক্ষাধিক পুণ্যার্থী শারদীয় দুর্গোৎসব পালন করবেন।
সরেজমিনে স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায় প্রতিমায় শেষ মুহুর্তের রঙয়ের কাজ করছেন শিল্পীরা।
কথা হয় প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত মৃৎশিল্পী (কারিগর) মঙ্গল পাল’র সাথে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবছর এভাবে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। এক মাস আগে থেকে তিনি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। এখন প্রতিমায় রঙের কাজ করা হচ্ছে। এক সেটে দুর্গার সঙ্গে থাকে অসুর, সিংহ, মহিষ, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক ও লক্ষী প্রতিমা।
তিনি বলেন, আগে একটা প্রতিমা সেট তৈরি করতে খরচ হতো ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন বাঁশ, কাঠ, কাদামাটিসহ প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম অনেক বেশি। তাই প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।
স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন মন্দিরে তৈরি করা হচ্ছে বিশাল দুর্গাপ্রতিমা। এ জন্য কারিগর আনা হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। এই মন্দিরে প্রতিমা স্থাপন ও আলোকসজ্জার বিপরীতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৬ লাখ টাকা।
এবার রাঙ্গুনিয়ার ১৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ১৫৭টি মণ্ডপে দুর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হবে। গতবার ১৫৬টি মন্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও এরমধ্যে ২টিতে এবার পূজা মণ্ডপ হচ্ছে না। তবে ৩টি মন্ডপ নতুন করে হওয়ায় গতবারের চেয়ে এবার ১টি মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরমধ্যে সবচেয়ে বড় মণ্ডপ হতে যাচ্ছে উপজেলার সাবেক রাঙ্গুনিয়া মহাজন পাড়া পূজা মণ্ডপ। এই মণ্ডপে বিভিন্ন থিমে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে উদযাপিত হবে পূজা অর্চনা।
এরবাইরেও উপজেলার অন্যতম বড় পূজা মণ্ডপগুলো হলো শান্তিনিকেতন সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, চন্দ্রঘোনা গিতা ভবন, চন্দ্রঘোনা রাম কৃষ্ণ কালি মন্দির, পদুয়া জমাদর ঠিলা ও রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ড রাঙ্গুনিয়া গ্রাম হিন্দুপাড়ায়। এসব মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। কিছু কিছু মণ্ডপে চলছে শেষ মুহুর্তের রং-তুলির ছোঁয়া।
উৎসবের প্রথম দিন দেবীর আগমন বোধন ষষ্ঠী পূজা, দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী, তৃতীয় দিন মহাঅষ্টমী, চতুর্থ দিন মহানবমী ও সন্ধিপুজা এবং শেষ দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে দশমী বিহীত পুজা উদযাপিত হবে।
মণ্ডপে মণ্ডপে পুষ্পমাল্য ও বিল্লপত্রের মাধ্যমে পুষ্পাঞ্জলি, ধুপ-কুশির মাধ্যমে প্রতিমা আরতি, অন্ন প্রসাদ ও পুরোহিত দ্বারা চণ্ডি পাঠসহ নানা সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এদিকে, প্রতিবছরের মত এবারও পূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও রাঙ্গুনিয়া থানার সাথে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।
এসব বৈঠক সুত্রে জানা যায়, এবার পূজা মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৪ ঘন্টা মোতায়ন থাকবেন। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে পুলিশের ১টি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ দল টহলে থাকবেন। এরবাইরেও কেন্দ্রিয়ভাবেও একটি টহল দল সার্বক্ষণিত নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।
রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ড হিন্দুপাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুবেল কান্তি দেব বলেন, এই পূজা মণ্ডপ উপজেলার অন্যতম বড় দুর্গোৎসব। এখানে জাতী ধর্ম নির্বিশেষে সকলকে আসার অনুরোধ জানায়। এখানে প্রতিদিন আকর্ষনীয় ভাবে পূজা উদযাপন করা হবে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্ঠা ও চট্টগ্রাম উত্তরজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সহসভাপতি নির্মল কান্তি দাশ জানান, বিগত প্রায় একমাস ধরে শিল্পীরা নান্দনিক ছোঁয়ায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছেন। উপজেলার নিজস্ব শিল্পীদের পাশাপাশি কিছু কিছু মণ্ডপে চট্টগ্রাম শহর থেকেও শিল্পী এনে পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দুর্গোৎসবে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সাথে একাধিকবার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।








