ধান মাড়াইয়ের কাজ শেষে বস্তাবন্দীও করা হয়েছিল। বুধবার থেকেই ধানগুলো বাড়ি নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আগুনে পুড়ে ছাই হল দুই চাষির ৮ একর জমির ধান।
মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার উত্তর ঘাটচেক হাজারী বিলের পশ্চিম পাড়ে এই ঘটনা ঘটে।
আগুন লাগার খবরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কিভাবে আগুন ধরেছে সে ব্যাপারে জানা না গেলেও দুর্বৃত্তরা ষড়যন্ত্র করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। তাদের প্রায় ৩শত মন ধান পুড়ে গেছে বলে দাবী করেছেন তারা।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উত্তর ঘাটচেক এলাকার হাজারী বিলের কৃষি মাঠের একপাশে এই দুই কৃষক তাদের ধানগুলো রেখেছিলেন। একজন মাড়াই করে ধানগুলো বস্তাবন্দী করে ফেলেছেন এবং অন্যজন ধানের গাদা করে মাড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় মো. নাঈম নামে একজন শুকনো পাকা ধানের গাদায় আগুন জ্বলতে দেখে চাষীদের ফোন দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটানাস্থলে এসে প্রায় এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই প্রায় সব ধান পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এদিকে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে ধানচাষ করে তা এ ভাবে পুড়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে দুই চাষির। তাঁদের একজন পৌরসভার মুরাদনগর এলাকার ওসমান খাঁনের পুত্র তমিজ উদ্দিন কুসুম। তিনি ৬ একর জমিতে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ব্রি-৪৯ জাতের ধানের চাষাবাদ করেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে সবগুলো ধান মাড়াই শেষে ৬০ কেজি বস্তায় করে ২৫০টি বস্তাবন্দী করে কৃষি মাঠে রেখেছিলেন। বুধবার সকাল থেকে ধানগুলো ঘরে আনার কথা ছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে তার আগেই প্রায় দেড়শত বস্তায় রাখা ২৩০ মন ধান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। অন্যজন উত্তর ঘাটচেক এলাকার মাওলানা আবদুল কাদেরের ছেলে হোসেন আহমদ। তিনিও ২ একর জমিতে একই জাতের ধানের চাষ করেছিলেন। চাষ থেকে শুরু করে ধানের গাদা করা পর্যন্ত তার প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তার ধান গুলো বুধবার সকালে মাড়াই করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে গাদাতেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার সবগুলো ধান। তার প্রায় ৭৫ মন ধান পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
বুধবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে ক্ষতিগ্রস্ত এই দুই চাষী হতাশ হয়ে বসে আছেন। তাদের ঠিক করা শ্রমিকরা পুড়ে যাওয়া ধানের গাদা থেকে বেঁচে যাওয়া ধানগুলো আলাদা করছিলেন। এরমাঝে কথা হয় এই দুই কৃষকের সাথে।
তারা জানায়, কুসুমের ৬ একর ও হোসেন আহমদের ২ একর জমির ধানের পুরোটাই সেখানে রাখা ছিল। দু’জনের চাষবাসই মূল জীবিকা। কষ্টের ফসল এভাবে পুড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কী ভাবে ঋণ শোধ করবেন, কী ভাবে শ্রমিকদের বেতন দেবেন কিংবা সারাবছরের কিভাবে চলবেন তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন দু’জনেই।
তারা আরও জানায়, তাদের সাথে কারো কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। এরপরও কেন কষ্টের ফসল এভাবে পুড়ে নষ্ট করা হয়েছে তা বুঝতে পারছেন তারা। বাকী যেসব ধান কোনরকম উদ্ধার হয়েছে তা যেন সরকার ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করেন সে দাবী করেন তারা।
রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘ধানে আগুন লাগার খবরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। তবে কিভাবে আগুন লেগেছে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে তা উদঘাটনে আমরা একটা কমিটি ঘটন করব। তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে কিভাবে এখানে আগুন লেগেছে।’
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহায়তা দেয়া হবে।”








