সিপ্লাস ডেস্ক: রাজধানীর পল্লবীতে তিন কলেজছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাসা থেকে বের হয়ে তারা নিখোঁজ হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। তারা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার পল্লবী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিখোঁজ তিন ছাত্রীর একজনের মা।
ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আরিফুল ইসলাম বলেন, তিনজনই দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। আলাদা প্রতিষ্ঠানে পড়লেও তারা ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। বৃহস্পতিবার সকালে তারা নিজেদের বাসা ছেড়ে বের হন। তখন তাদের পরনে ছিল কলেজের পোশাক। তবে তারা সঙ্গে নেন নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও স্কুলের সার্টিফিকেট। এর পর থেকে তাদের খোঁজ মিলছে না।
তিন ছাত্রীর পরিবারের বরাত দিয়ে আরিফুল ইসলাম জানান, কিছুদিন আগে তারা জাপান যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন প্রতিবেশী এক যুবকের কাছে। তবে তাদের কোনো পাসপোর্ট নেই। এ ঘটনায় বন্ধুস্থানীয় ওই যুবকসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।
নিখোঁজ দিলখুশের মা মাহমুদা আক্তার তরিকুল, তার ভাই রকিবুল ও কথিত টিকটক মডেল জিনিয়াকে অভিযুক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘এই চক্রটি মেয়েদের বিদেশে পাঠানোর নামে প্রলুব্ধ করেছে এবং তাদের খপ্পরে পড়েই মেয়েরা বাসা ছেড়ে পালিয়েছে।’
নিখোঁজ দিলখুশের বোন আইনজীবী কাজী রওশন দিল আফরোজ সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে তিনজনই কলেজের পোশাক পরে বাসা থেকে বের হন। তাদের সঙ্গে কলেজের ব্যাগ ছিল। এরমধ্যে দিলখুশ বাসা থেকে ছয় লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন নিয়েছেন। অপর দু’জনের একজন আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং আরেকজন ৭৫ হাজার টাকা নিয়েছেন।
কাজী রওশন দিল বলেন, ‘প্রতিবেশী তরিকুল প্রায়ই দিলখুশের সঙ্গে কথা বলতেন। তিনি নিজেকে অনেক বড় হ্যাকার হিসেবে পরিচয় দেন। সেইসঙ্গে বড় প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেও দাবি করেন। তিনি নাকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লোক পাঠান। তার কথার ফাঁদে পড়েন দিলখুশ। বাসায় এসে আমাকে বলে-আপু, তরিকুল তোমাকে তার প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা হিসেবে চাকরি দেবে। এ ঘটনার পর তরিকুলের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তিনি ও তার ভাই রকিবুল বৃহস্পতিবার থেকে বাসায় নেই। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ।’
পল্লবী থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর তরিকুলসহ দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তারা ছাত্রীদের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কিছু জানে না বলে দাবি করেছেন। অবশ্য বন্ধুস্থানীয় হওয়ায় মাঝেমধ্যে তাদের কথা হত।

