নিউজটি শেয়ার করুন

রাত পোহালেই রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া: রাত পোহালেই রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
প্রথমবারের মতো রাঙ্গুনিয়া পৌরসভায় সবকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে।
ইতিমধ্যে ভোটের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে স্ব স্ব কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা তাদের নির্বাচনের সরঞ্জাম গ্রহণ করে রাত থেকেই কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ২ প্লাটুন (৪০ জন) বিজিবির ৩টি ভ্রাম্যমান দল, পুলিশের ৯টি মোবাইল টিমসহ কেন্দ্রে কেন্দ্রে ৩শত জন পুলিশ, র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের টহল টিম মোতায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া বিপুল সংখ্যক আনসার মোতায়নের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৫১৯ জন এবং নারী ১২ হাজার ২৭২ জন। ১১টি ভোট কেন্দ্রের ৭০টি বুথে এবার ইভিএম এ ভোট গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. শাহজাহান সিকদার ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও পৌরসভা বিএনপির সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন শাহ প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। অন্যদিকে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।
পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৫ জন ও পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৮ জন প্রার্থী ভোটে লড়ছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। খারাপ কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”
এদিকে প্রচারণার শুরু থেকে মাঠে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরব প্রচারণা চালালেও প্রচারণার লেশমাত্র ছিল না বিএনপি প্রার্থী হেলাল উদ্দিন শাহ’র। রাঙ্গুনিয়ার পৌরসভার কোথাও তার কোন ব্যানার-পোষ্টার দেখা যায়নি। কোন প্রকার গণসংযোগ-প্রচারণাও করেননি তিনি।
তবে তার অভিযোগ তাকে নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেওয়া হয়নি। ভোটাররা লাইনে দাড়িয়ে ভোট দিতে পারলে নিরব ভোটে বিপ্লব ঘটাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শাহজাহান সিকদার টানা জয় ধরে রাখতে চান। এজন্য প্রথম থেকেই তিনি মাঠে সরব প্রচারণা চালিয়েছেন বলে তিনি জানান।
বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ ভিত্তিহীন জানিয়ে শাহজাহান সিকদার বলেন, অভিযোগের রাজনীতি বিএনপির স্বভাবগত অভ্যাস। তাদের সাথে জনগণের কোন যোগাযোগ নেই। তাই নিশ্চিত পরাজয় জেনে তারা মাঠেই নামেনি, তাই প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার প্রশ্নই উঠেনা।” উল্লেখ্য ২০০০ সালের ৮ জুলাই রাঙ্গুনিয়া পৌরসভা গঠিত হয়। ২১.৬৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভা ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত ‘খ’ শ্রেণির পৌরসভা।
করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার প্রথম পৌর প্রশাসক ছিলেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার আমলে ২০০১ সালে পৌরসভা নির্বাচনে নুরুল আমিন তালুকদার মেয়র নির্বাচিত হন।
২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের খলিলুর রহমান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মো. শাহজাহান সিকদার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবারও তিনি জয়ের মাধ্যমে টানা জয় ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী।