নিউজটি শেয়ার করুন

রামুতে হাতুড়ে কেড়ে নিলো স্কুল ছাত্রের পা

হাবিবুর রহমান সোহেল,রামু: কক্সবাজার রামুতে হাড়ভাঙ্গা ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় পা হারাতে বসেছে উত্তর মিঠাছড়ি কিন্ডার গার্ডেনের নার্সারির ছাত্র শুভম বড়ুয়া (০৬) নামের এক শিশু।

গত দুই মাস আগে খেলতে গিয়ে হাটুতে চোট লাগলে চিকিৎসা নিতে আসেন রামু চৌমুহনীতে অবস্থিত “ডুলহাজারা এক্স-রে সেন্টার ও হাঁড়ভাঙ্গা চিকিৎসালয়” ডাঃ প্রদীপ চৌধুরীর কাছে। সেখানে ভুল চিকিৎসায় ৬ বছরের শিশুর পা হারাতে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শিশুর পিতা রিপন বড়ুয়া।

অভিযোগকারী শিশুর পিতা রিপন বড়ুয়া জানান , দুই মাস আগে শুভম বড়ুয়া স্কুল থেকে ফেরার পথে খেলতে গিয়ে হাটুতে চোট লাগে। কয়েকদিনপর ব্যাথা অনুভব করলে সাথে সাথে রামুর চৌমুহনীতে অবস্থিত ডুলহাজারা এক্স-রে সেন্টার এন্ড হাঁড়ভাঙ্গা চিকিৎসালয়ে ডাঃ প্রদীপ কুমারের চেম্বারে নিয়ে যায়। ডাক্তার পরীক্ষা নীরিক্ষা করে পায়ে দুই মাসের জন্য প্লাস্টার ও প্রয়োজনীয় মেডিসিন দেন। দুই মাসের ভিতরে প্রতি সপ্তাহে একবার করে প্রায় আটবার এক্স-রে করেন। বাচ্চার পায়ে ব্যাথা ও যন্ত্রণা অনুভব বেড়ে গেলে দুই মাসের আগে প্লাস্টার খুলে পায়ের অবস্থা খারাপ দেখে ভাল ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন তিনি।

পরবর্তীতে আমরা সদরের কক্স ন্যাশনাল হসপিটালে আর্থোপেডিক সার্জন ডাঃ এস.এম. মোস্তফা সারোয়ারকে দেখালে তিনি বলেন, বাচ্চার অবস্থা ভালো না, অপ্রোয়জনীয় প্লাস্টারের কারনে বাচ্চার পা ফুলে ভিতরে ইনফেকশন দেখা যাচ্ছে এবং দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। কিন্তু দেশে করোনা পরিস্থিতির কারনে চট্টগ্রাম যাওয়া আসা কষ্টসাধ্য হওয়ার কারনে (০৬) মে ডুলহাজারা খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ডাঃ পরীক্ষা নীরিক্ষা করে অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দেন এবং ০৭ মে অপারেশন সম্পন্ন করেন। অপারেশনের ১৪ দিন পর অবস্থা আরো খারাপ দেখে পা কেটে ফেলতে বলেন। আমার পরিবার রাজি না হওয়াতে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গিয়ে অর্থোপেডিক্স সার্জনকে দেখায়। তিনিও পা কাটার পরামর্শ দেন আরো বলেন পা না কাটলে পরবর্তীতে আরো খারাপ অবস্থা হতে পারে।

তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমার মত কোন ছেলের যাতে ভুল চিকিৎসায় পা হারাতে না হয়। ভুল চিকিৎসা প্রদানকরী ডাঃ প্রদীপ কুমারকে প্রচলিত আইনে দ্রুত শাস্তির দাবী জানান তিনি।

জানা যায়, ডাঃ প্রদীপ কুমার ডুলহাজারা মালুমঘাট খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হসপিটালে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন পাঁচ বছর। সেই সহকারীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রামুতে “ডুলহাজারা এক্স-রে সেন্টার এন্ড হাঁড়ভাঙ্গার চিকিৎসালয়” নামে খুলে বসেছে অনুমোদনহীন অবৈধ চেম্বার। যার কোন রেজিষ্ট্রেশন নেই। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে রামুতে হাড়ভাঙ্গার চিকিৎসা দিতে গিয়ে ভুল চিকিৎসার অনেক অভিযোগের কথা বললেন এলাকাবাসী।

সার্টিফিকেট ও রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কিভাবে শুধু অভিজ্ঞতা নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, “ডুলহাজারা এক্স-রে সেন্টার ও হাঁড়ভাঙ্গা চিকিৎসালয়” নামে কোন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেয় নি তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি স্বীকার করে ডাঃ প্রদীপ কুমার জানান, আমি আসলে অর্থোপেডিক্স কোন ডাক্তার নয়। পাঁচ বছর ডুলহাজারা খ্রিষ্টান মেমোরিয়াল হসপিটালে সহকারী হিসেবে কাজ করে একটা ট্রেনিং নিয়ে চেম্বার খুলে বসেছি। শুভম বড়ুয়া নামের বাচ্চাটি এসেছিল দুই মাস আগে আমার চেম্বারে আসার পর পরীক্ষা নীরিক্ষা করে হাড় ভেঙ্গে গেছে দেখে তাকে প্লাস্টার দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। মাঝখানে কয়েকবার এক্স-রে করে দেখছি কিন্তু কিছু বুঝতে পারি নাই যে বাচ্চার এই অবস্থা হবে। পরে বাচ্চার যন্ত্রণা দেখে তিন সপ্তাহ পরে প্লাস্টার খুলে এক্স-রে করে পায়ের ভিতরে ইনফেকশন অর্থাৎ ক্যান্সারের উপদ্রব দেখে ভালো ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দিয়ে পাঠিয়ে দিই।

রামু উপজেলা সাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ নোবেল কুমার বড়ুয়া বলেন, আমাদের কাছে এখনো কোন অভিযোগ আসে নাই। তবে অভিযোগ পেলে আমাদের একটা টিম উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে একটা টিম গঠন করে তদন্ত পূর্বক ব্যাবস্থা নিব।