নিউজটি শেয়ার করুন

রাশিয়ার নির্দেশেই হয়েছিল সেই মালয়েশিয়ান বিমানে হামলা!

২০১৪ সালে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের বিমান এমএইচ১৭ কে ভূপাতিত করার অভিযোগ উঠেছে রাশিয়ার সরকারের উচ্চ পদস্থ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

তবে সেই মিসাইল ইউক্রেনের সরকারপন্থী ও বিদ্রোহী উভয়েই ব্যবহার করে বলে এটি কে ছুড়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি ওই তদন্ত প্রতিবেদনে।

ওই তদন্তের পর রাশিয়া এই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছিল।

শুধু তাই নয়; পূর্ব ইউক্রেনের যে বিদ্রোহীরা ওই বিমানটি ভূপাতিত করার সঙ্গে জড়িত তাদের সঙ্গে খোদ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে দাবি নেদারল্যান্ডভিত্তিক তদন্ত দলটির।

একটি আন্তর্জাতিক তদন্ত সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি, ডয়েচে ভেলে, দ্য গার্ডিয়ানসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এমনটাই জানিয়েছে।

তদন্তকারীরা এই ঘটনার জন্য চারজনকে দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। যাদের মধ্যে একজন সেনাপ্রধানও রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে এই সন্দেহভাজনদের বিচার শুরু হবে।

প্রমাণ হিসেবে বৃহস্পতিবার কিছু ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ করে তদন্ত দলটি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এমএইচ১৭কে ভূপাতিতে অভিযুক্ত ইউক্রেনের বিদ্রোহী দল ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিকের নেতাদের সঙ্গে রাশিয়ার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের টেলিফোনে কথা বলছিলেন।

কথোপকোথন রাশিয়ার নাগরিক ও বিদ্রোহী দলটির স্বঘোষিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আইগর গিরকিন রাশিয়ার কাছ থেকে সামরিক সহায়তা চাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেরগেই সইগুর নাম উচ্চারণ করছিলেন। এ সময় রাশিয়া থেকে সব রকম সহায়তা করা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয় ওই ফোনালাপে।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, রাশিয়ার শীর্ষ ব্যাক্তিরাই ইউক্রেনের বিদ্রোহী দলটিকে দিয়ে বিমানটি ভূপাতিত করায়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেরগেই সইগুর বিদ্রোহী দলটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, তদন্ত কর্মকর্তারা পূর্বানুমানের ভিত্তিতে এই তদন্ত করেছেন।

ফাঁস হওয়া ফোনালাপ বিষয়ে তাদের দাবি, এই সমস্ত খবর মিথ্যা ও সাজানো। এমন ফোনালাপের সত্যতার কোনো প্রমাণ নেই। ওই ফোনালাপে রাশিয়ার কোনো কর্মকর্তা জড়িত নয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই ২৯৮ জন যাত্রী নিয়ে ইউক্রেনে ভূপাতিত হয় মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ওই বিমানটি।

বিমানটি আমর্স্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুরের দিকে যাচ্ছিল। সে সময় ইউক্রেনের সরকারি বাহিনী ও রুশপন্থী

বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল। আর সেই পূর্ব ইউক্রেনে বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৯৬ জন

ডাচ এবং ১০ জন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।

প্রথমে উল্কার আঘাতে বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হলেও পরে প্রমাণিত হয় যে ভূমি থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে এটি ভূপাতিত হয়ে বিদ্ধস্ত হয়।