সিপ্লাস প্রতিবেদক: অস্ত্র মামলায় রায় ঘোষণার দেড় বছর পর পুলিশের হাতে পৌঁছাল নগরীর নাছিয়া ঘোনা এলাকার আলোচিত নুরে আলম ওরফে নুরুর সাজা পরোয়ানা।
বুধবার বিকালে সাজা পরোয়ানা পুলিশের হাতে এসেছে বলে জানান আকবর শাহ থানার ওসি জহির হোসেন।
নগরীর পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনির নাছিয়া ঘোনা এলাকায় সব অপকর্মের ‘হোতা’ নুরুর বিরুদ্ধে পাহাড় কাটা, কাঠ পাচার, মাদক বিক্রিসহ নানা অভিযোগে ২৮টি মামলার খবর পুলিশের কাছে থাকলেও সাজার কোনো পরোয়ানা ছিল না।
একটি অস্ত্র মামলায় ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৬ এর বিচারক মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ আসামি নুরুকে ১০ বছর ও ৭ বছর করে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন।
কিন্তু রায় ঘোষণার দেড় বছর পরও আদালতের রায়ের অনুলিপি বা সাজা পরোয়ানা থানায় পৌঁছেনি।
আকবর শাহ থানার ওসি জহির হোসেন বলেন, আদালত থেকে যেসব পরোয়ানা আসে তা থানার নিবন্ধন বইতে লিপিবদ্ধ থাকে। কিন্তু ২০১৯ ও ২০২০ সালের নিবন্ধন বইতে নুরে আলম ওরফে নুরুর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার কোনো কিছু উল্লেখ নেই।
“নুরুর বিরুদ্ধে পুলিশের করা একটি মামলায় সাজা হলেও তা এতদিন পুলিশের হাতে আসেনি। সাজার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট আদালতে যোগাযোগ করেছি। বুধবার পরোয়ানাটি আদালতের সেরেস্তায় পৌঁছেছে। আমাদের লোক গেছে তা গ্রহণ করতে।”
ট্রাইবুন্যালের অতিরিক্ত পিপি আখতারুন্নেসা দুপুরে সাজা পরোয়ানা বুধবারের মধ্যে থানায় পৌঁছানোর কথা টেলিফোনে নিশ্চিত করেন।
২০১৪ সালের ৬ জুলাই নুরে আলম ওরফে নুরুকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আকবর থানা পুলিশ। পুলিশ বাদী হয়ে এ ঘটনায় একটি মামলা করে। এ মামলায় ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইবুন্যাল-৬ এর বিচারক মুহাম্মদ ছালামত উল্লাহ আসামি নুরুকে ১০ বছর ও ৭ বছর করে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৬ জুলাই গভীর রাতে আকবর শাহ থানার পূর্ব ফিরোজ শাহ কলোনী এলাকা থেকে নুরুকে একটি দেশীয় এলজি ও চার রাউন্ড গুলিসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক, ছুরিও উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় এসআই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে আকবর শাহ থানায় নুরুর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। এসআই মো. মনির মামলাটির তদন্ত করে একই বছরের ৭ অগাস্ট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তা বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইবুন্যালে পাঠায়। পরের বছরের ৪ অগাস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করে মামলাটির বিচারের জন্য প্রস্তুত করে।
১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ১৭ জুলাই বিচারক অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় ১০ বছর ও ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার সময় নুরু পলাতক ছিলেন।
গত ২৬ ডিসেম্বর নুরুকে ধরতে নাছিয়া ঘোনায় অভিযানে গেলে সেখানে পুলিশের উপর হামলা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে নুরুর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেও পালিয়ে যান তিনি। এরপর ৩১ ডিসেম্বর ভোরে অভিযান চালিয়ে নুরুর ১২ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৪ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় নাছিয়া ঘোনায় অভিযান চালিয়েও তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, নুরুর পরিবারের সদস্যরা নাছিয়া ঘোনা এলাকায় ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ করেন। নুরুর মতো তার ভাই জানে আলমও সেখানে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে তুলেছেন।
নুরুর স্ত্রী, তার ভাই জানে আলমের স্ত্রী ও বোন রুবি তাদের অনুসারী পরিবারের নারীদের নিয়ে পুলিশের উপর ইট ছোঁড়ে বলে জানান স্থানীয় কয়েকজন। নুরুর স্ত্রী ও বোন সেখানে ‘ইয়াবা কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন’ বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ওসি জহির জানান, নুরুর বিরুদ্ধে আকবর শাহ ও খুলশী থানায় হওয়া ২৮টি মামলার তথ্য তাদের কাছে আছে। বিভিন্ন ধরনের ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।








