নিউজটি শেয়ার করুন

রুমায় লকডাউনে থাকা দুস্থদের মাঝে সেনাবাহিনীর খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

শৈহ্লাচিং মারমা, রুমা: বান্দরবানের রুমা উপজেলায় করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিজ বাসা- বাড়িতে থাকা অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার সকালে রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও থানা পাড়া সংলগ্ন দুইটি স্থানে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন রুমা জোন (২৭ ইবি) এর সার্বিক তত্বাবধানে ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় রুমা উপজেলায় বিভিন্ন পাড়ার অসহায় ও গরীব এসব চাল বিতরণ করা হয়।

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস(কোভিড-১৯) মোকাবেলায় নিজ ঘরে থাকা দুর্গম এলাকার আশ্রম পাড়া, রুমাচর পাড়া, বর্শিপাড়া, ইডেন পাড়া, মুসলিম পাড়া, লুংঝিরি পাড়া ও মুনলাই পাড়াসহ আরো বেশ কযেকটি পাড়ার মোট ১৩৪ পরিবারকে বিতরণকৃত খাদ্য সামগ্রীর পেকেট ( প্রতি পরিবারকে চাল ৬ কেজি ৫০০ গ্রাম, এক কেজি ডাল, আধা লিটার তেল, দুই কেজি আটা, আধা কেজি পেঁয়াজ, ২৫০ গ্রাম লবন, এক পেকেট বিস্কুট ও ২৫০ গ্রাম সুজি সহ ) খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন রুমা সেনা জোনের সেনা সদস্যরা।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন রুমা জোনের মেজর নাজমুল কাদির শুভ।

তিনি বলেন রুমা জোন সেনাবাহিনী নিজস্ব উদ্যোগে লকডাউনে থাকা দুস্থদের মাঝে আরো ত্রাণ বিতরণ করবে।

এসময় মেজর নাজমুল সুবিধাভোগী দুস্থদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরার পাশাপাশি বার বার হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা ও ঘরে থাকার আহ্বান জানান।

সেনা সূত্রে জানা গেছে গত ২৪ মার্চ হতে সিভিল প্রশাসনকে সাথে নিয়ে রুমা জোনের সেনা সদস্যগণ মাস্ক, লিফলেট বিতরণ ও রাস্তায়-রাস্তায় জীবাণু নাশক স্প্রে ছিটানো, হোম কোয়ারান্টাইন নিশ্চিত করণ, সার্বক্ষণিক টহলের মাধ্যমে জনসচেতনতা মূলক প্রচারণা, নিরাপদ দুরত্বে থাকা নিশ্চিতকরণ, বহিরাগমনকৃত গাড়ী প্রবেশ আটকাতে চেকপোস্ট স্থাপন সহ বিভিন্ন ধরণের জনসচেতনতা কমর্কান্ডে নিয়োজিত রয়েছে।

করোনা ভাইরাস ( কোভিড-১৯) পরিস্থিতি মোকাবেলায় রুমা সেনা জোন কতৃক এ ধরণের কর্মককান্ড ভবিয্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে রুমা জোনের এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে গতকাল সোমবার বিকালে রুমা জোনের সেনা বাহিনীর রেশম থেকে আমতলি পাড়া ও বটতলি পাড়ার অসহায় দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বটতলি পাড়া বাসিন্দা ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মংজাইপ্রু মারমা(৯০) বলেন আমি নিজ বাড়িতে বসে খাদ্য সামগ্রী পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। তার কথায় – ঘরে গিয়ে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া এটি প্রথম জেনেছেন। হাতে ত্রাণ পেয়ে অবাক অন্ধ বয়স্ক লোকটি। তিনি গত ১৫ বছর যাবত দৃষ্ট হারিয়ে অন্ধত্ব জীবন কাটিয়ে আসছেন। তবে করোনা ভাইরাস কতটুকু ভয়ানক সেটা কোনো রকমই অনুভব করেন না। ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় তাও জানেন না। তাই মাস্ক পরিধান তার জন্য বিব্রতকর। বরঞ্চ এ বৃদ্ধ বয়সে মাস্কে নাকের শ্বাস বন্ধের উপক্রম হয়, এমন কথা বললেন তিনি।

অন্যদিকে বটতলি পাড়া প্রধান থোয়াইচিং মারমা কারবারী বলেন প্রশাসেনের নির্দেশনা মোতাবেক করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যখন পাড়ার লোকজন লকডাউনে খাদ্য সংকটে অনেকেই, ঠিক তখন সেনাসদস্যরা পাড়ায় অসহায় দুস্থদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে গেছেন।

এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্টদের আহবান জানান তিনি।