নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের এনআইডি: চট্টগ্রামে ইসির আরেক কর্মী গ্রেপ্তার

সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক নাজিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ নিয়ে পরিচয়ত্রপত্র জালিয়াতির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের চার কর্মচারীসহ মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হল।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক রাজেশ বড়ুয়া  বলেন, ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার তিনজনের ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সরবরাহ করার তথ্য পাওয়া গেছে নাজিমের বিরুদ্ধে।

গত অগাস্ট মাসে এক রোহিঙ্গা নারী ভুয়া এনআইডি নিয়ে চট্টগ্রামে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে ধরা পড়ার পর জালিয়াত চক্রের খোঁজে নামে নির্বাচন কমিশন। আটকে দেয় রোহিঙ্গা সন্দেহে অর্ধশত এনআইডি বিতরণ।

এনআইডি জালিয়াতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নির্বাচন কার্যালয়ের অফিস সহায়ক জয়নাল আবেদীন নামে একজনকে তার দুই সহযোগী আটক ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করে পুলিশে দেয় কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা বাদি হয়ে কোতোয়ারী থানায় মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত করছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

জয়নালের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট নির্বাচন কমিশনের প্রকল্পের অধীনে কর্মরত মোস্তফা ফারুক নামের এক টেকনিক্যাল সাপোর্ট কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে তদন্তকারীরা তথ্য পান, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট পদে কর্মরত শাহনূর মিয়ার মাধ্যমে তারা রোহিঙ্গাদের এনআইডি করিয়ে দিতেন। শাহনূর দেশের বিভিন্ন উপজেলার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সার্ভারে প্রবেশ করতে পারেন।

২৩ সেপ্টেম্বর শাহনূরকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কাউন্টার টেরোরিজম।

এরপর গত ১৪ নভেম্বর ট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও অফিস সহকারী আনোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেপ্টেম্বরে জয়নাল গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে জানিয়েছিল, ২০১৬ সালে মোস্তফা ফারুক চাকুরিচ্যুত হওয়ার পর গ্রেপ্তার নাজিমের মাধ্যমেই এনআইডি তৈরি করে দিতেন। নাজিম এক নির্বাচন কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।