নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিচার হবেই: আইসিসি

রেহিঙ্গা ইস্যুতে প্রত্যাবাসন এবং বিচার দুটি আলাদা বিষয়। তাই প্রত্যাবাসন হোক বা না হোক, মিয়ানমারের বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিনিয়র উপদেষ্টা পকিসো মচোচকো।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ আইসিসি কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারের সার্বিক অসহযোগিতা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন চালানো প্রতিটি ব্যক্তিকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে।

তিনি বলেন, এটা ঠিক যে বিচার শুরু করতে ৩ বছর সময় লেগেছে। কিন্তু যত সময়ই লাগুক, বিচার হবে। বাস্তবতা হলো আইসিসি-র বিচারে সময় লাগে। কিন্তু বিচার নিশ্চিত করাই আমাদের কাজ।

তিনি বলেন,  আইসিসির প্রসিকিউটর এটিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তদন্ত শুরু হয়ে গেছে।

মচোচকো বলেন, মিয়ানমার আইসিসিকে কোনো প্রকার সহযোগিতা করছে না। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটি বিচার করতে মিয়ানমারের দিকে তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা মিয়ানমারকে আবারো আহ্বান জানাই এই মানুষদের বিচারে তদন্ত করার সুযোগ দেওয়া হোক।

আইসিসি-র এ কর্মকর্তা হুঁশিয়ার করে বলেন, এই অপকর্মে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান, সেনা কর্মকর্তা বা সৈনিক যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তা চিহ্নিত করা অবশ্যই দরকার। এটি অবশ্যই বের করতে হবে কে রোহিঙ্গাদের হত্যা করেছে। কে তাদের ওপর নির্যাতন করার পরিকল্পনা করেছে। কে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশ থেকে বের করে দিতে কাজ করেছে। তা বের করতে হবে। আইসিসির কাজই হল এটি বের করা। তা সে আইসিসির সদস্য হোক বা নাই হোক। এটি করতে সময় লাগবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যদি কোনো অপরাধ ঘটে থাকে তাহলে তার বিচার হবে।

আইসিসির সিনিয়র এ কর্মকর্তা আরও বলেন, নভেম্বর আইসিসির বিচারকের এই নির্দেশ পাওয়ার পর প্রসিকিউটারদের দায়িত্ব রোহিঙ্গাদের বিচার নিশ্চিত করতে সকল প্রকার তদন্তের অধিকার রাখে। এই তদন্ত করতে তথ্য সংগ্রহ করতে যে কোনো প্রকার কাজ করবে আইসিসি।

বিচার পটভূমি বিষয়ে তিনি বলেন, এখন কেউ অভিযুক্ত নয়। এ তদন্ত হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও বস্তুনিষ্ঠ। বিশ্বে যে কোনো প্রান্তের মানুষের ক্ষতি হয় বা জীবনের হুমকি রয়েছে তা তদন্ত করার অধিকার রাখে প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, সবকিছুর নির্ভর করে তথ্য উপাত্ত ও প্রমাণের যথেষ্ট সংগ্রহ করার ওপর। এ জন্য কত সময় লাগবে এখনই বলা যাচ্ছে না। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কারা এর জন্য দায়ী, কারা এর নির্দেশ দিয়েছে, কারা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং এই অপরাধ সংঘটনের জন্য কারা মদদ দিয়েছে।

মিয়ানমার রোম স্ট্যাটুটের সদস্য নয়, কিন্তু এর ফলে আইসিসির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কোনও সমস্যা হবে না কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আইসিসির প্রক্রিয়ার সঙ্গে মিয়ানমারের কোনও সম্পর্ক নেই বরং আমরা সেই ব্যক্তিদের খুঁজে বের করবো যারা এর জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ সব ধরনের তথ্য প্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করছে বলে, আইসিসির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান পকিসো মচোচকো।