
সিপ্লাস ডেস্ক: ভারতজুড়ে দেওয়া লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অনুরোধ করেছেন দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে তারা এ অনুরোধ করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
দেশটিতে গত মাসের শেষদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া ২১ দিনের লকডাউন মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে। এরপর লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হবে, নাকি অর্থনীতি সচল করতে ও নিম্নবিত্ত-শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে বিধিনিষেধ শিথিল হবে তা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই চলছে তুমুল আলোচনা।
মোদী নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এবার লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘সামাজিক দূরত্বের’ নির্দেশনা বহাল রেখেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করার কথা ভাবছে বলে সরকার সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
লকডাউনের কারণে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে আটকে পড়া হতদরিদ্র শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা নিয়েও চলছে লঙ্কাকাণ্ড।
প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুক্রবার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সুরাটে বাড়ি ফিরতে চাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর ৮১ জনকে আটক করা হয়েছে। এ শ্রমিকরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়েছিল ও রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল বলে অভিযোগ কর্মকর্তাদের।
“লকডাউনের কারণে কাজ না থাকায় বেঁচে থাকাটাই শ্রমিকদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে,” বলেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।
পরিযায়ী এ শ্রমিকদের পাশাপাশি ভারতজুড়ে থাকা অসংখ্য বস্তি ও ভঙ্গুর স্বাস্থ্য কাঠামোর কারণে ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে দেশটির অনেক কর্মকর্তাই সতর্ক করেছেন।
দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির এ দেশটিতে শনিবার সকাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এদের মধ্যে ২৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার মোদীর সঙ্গে বৈঠকে পাঞ্জাব, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশসহ অন্তত ১০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী লকডাউন বাড়াতে অনুরোধ করেছেন বলে এনডিটিভি জানিয়েছে।
কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের আগেই ওড়িষা এবং পাঞ্জাবের সরকার এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ রাজ্যে লকডাউন বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, লকডাউনের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র না নিলে দেশজুড়ে ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিহারের সরকার লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধিতে আপত্তি নেই জানালেও নির্মাণ খাত ও বন্যা ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার অনুরোধ করেছে।







