জিয়াউল হক ইমন: বিদ্যুৎ বিভাগের বাড়তি বিল করার অভিযোগ কমবেশি সব সময় থাকে। এবার নগরীর খুলশী থানাধীন ওয়াসার মোড়ে অবস্থিত বাণিজ্যিক ভবন মুনতাসির সেন্টারে তিনগুনের বেশী ‘ভুতুড়ে’ বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলশী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের বিরুদ্ধে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর দাবী এই অভিযোগ সঠিক নয়।
বুধবার (২৫শে মে) বিকালে মুনতাসির সেন্টারের জেনারেল ম্যানেজার মো. ইউছুপ সিপ্লাসটিভির অফিসে এসে এমন অভিযোগ করেন।
মো. ইউছুপ বলেন, গত মার্চ মাসে আমাদের এই সেন্টারের সব প্রতিষ্ঠান খোলা ছিল আর সে সময় বিদ্যুত বিভাগ বিল দিয়েছে সর্ব সাকুল্যে ২ লক্ষ ২৮ হাজার ৯শ ১৫ টাকা। আর এপ্রিল মাসে সরকার ঘোষিত লকডাউন পালন করার কারণে আমাদের সেন্টারে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ছিল মাত্র ১৩ দিন অর্থাৎ এপ্রিলের ১৩ তারিখের পর থেকে পুরো মাসে এই সেন্টারে থাকা প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই বন্ধ ছিল।
সে হিসাবে বিল আসার কথা এক লক্ষ টাকার নিচে, আর এখানে বিদ্যুত বিল দিয়েছেন ৩ লক্ষ ৮৪ হাজার ৫শ ৯২ টাকা। যেখানে তিনগুনেরও বেশী বিল দিয়েছে আমাদের।

ভুক্তভোগী বলেন, ভুতুড়ে বিলের বিষয়টি নিয়ে খুলশী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেনের সাথে দেখা করলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে না দেখে উল্টো বিদ্যুত বিলে উল্লেখ থাকা টাকা পরিশোধ করতে বলেন। অন্যথায় ৩০ মে’র মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষনা দেন।
তিনি আরো বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে গেলে তিনিও একই সুরে বলেন, আগে টাকা পরিশোধ করেন। তারপর কথা বলবো। অন্যথায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে’।
ভুক্তভোগী ইউছুপ বলেন, ‘১৭ দিন সেন্টার বন্ধ থাকার পরও বিদ্যুত বিভাগ যদি ধরে নেন ৩০ দিনেই খোলা ছিল। তর্কের খাতিরে ধরে নিলেও গত মাসের( মার্চ)চেয়ে ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৬শ ৭৭ টাকা বিল বেশী কেন? এ যেন যেমন খুশি তেমন বিলের খপ্পরে পড়েছি’।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাবের সহসভাপতি নাজের হোসাইন সিপ্লাসকে বলেন, ‘ভুতুড়ে বিদ্যুত বিল নিয়ে অনেক গ্রাহকরা আমাদের কাছে আসেন। এ নিয়ে যথেষ্ট ডকুমেন্ট আছে। বিদ্যুত বিভাগের সাথে অনেকবার কথা হয়েছে। কিছু কিছু সমস্যার সমাধানও পেয়েছি। মূলত মিটার রিডাররা টার্গেট পূরণে এই সমস্যা করেন। আশা করি কর্তৃপক্ষ তীক্ষ্ণ নজর দিয়ে এর অচিরেই সমাধান করবে’ বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি জানতে, খুলশীর বিদ্যুত বিভাগে ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শাহরেওয়াজ মিয়া জানান, ‘ভুতুড়ে বিল ১৯৯১ সালের সৃষ্টি, বর্তমান ডিজিটাল যুগে এটার অস্তিত্ব নেই।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সময় ১০ দিনের বিল এক মাসের চেয়ে বেশী আসতে পারে কারন এটা মাস বা দিনের হিসাব নয়, এটা ব্যবহারের উপর নির্ভর করে।
‘যদি আমাদের সহকারী প্রকৌশলী আমির হোসেন সাহেব গ্রাহককে সংযোগ বিচ্ছিন্নের কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটা আমি বিশ্বাস করি, এই বিল চেক করেই বলা হয়েছে’। ‘তারপরও হতাশ হওয়ার কিছু নেই, মিটার ঠিক আছে কিনা তা ভুক্তভোগী তাঁর পছন্দের একজন ইঞ্জিনিয়ার দেখাতে পারেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী অফিসে অভিযোগ করলে, আমরা চেক করে প্রয়োজনে আরেকটি মিটার পাশে বসিয়ে ৫-৬ মাস পর্যবেক্ষণ করলে, মিটার ঠিক আছে কিনা তা বের হয়ে আসবে’ বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) চট্টগ্রাম এর প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু সিপ্লাসকে বলেন, ভুতুড়ে বিল বলতে কিছু নেই। যা হচ্ছে তা হলো মাঠে যারা আমাদের মিটার রিডার থাকে তাদেরকে অনেক সময় গ্রাহকরা কনভিন্স করে মাসিক বিল কমানোর অনুরোধ করলে মাঝে মাঝে এমন হতে দেখা যায়। পরে ঐ এলাকায় নতুন কোন প্রকৌশলী যোগ দিলে কমানো বিলটি পরের মাসে যোগ করে দিলে বাড়তি বিলের অভিযোগ উঠে। মিটার রিডিং দেখে চেক করলে গ্রাহক সেটা বুঝতে পারে। মুনতাসির সেন্টারের বাড়তি বিলের অভিযোগটি আমাদের কাছে আসলে খতিয়ে দেখা হবে’ বলেও জানান তিনি।








