Site icon CPLUSBD.COM

লকডাউন না মেনে প্রত্যাহারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা

সিপ্লাস প্রতিবেদক: করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারের লকডাউন প্রত্যাহারের দাবিতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছেন।

চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় দারুল ফজল মার্কেটের সামনে মার্কেটের দোকানপাট খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রিয়াজ উদ্দিন বাজার, তামাককুন্ড লেইন, জহুর হকার্স মার্কেট সহ নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা।

সোমবার(৫এপ্রিল) দুপুরে নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকেরা সড়কে নেমে লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ করতে থাকেন।

সরকার লকডাউন ঘোষণার পরপরই রবিবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ব্যবসায়ীরা।

নিউমার্কেট এলাকায় সোমবার সকালের পর থেকে শত শত ব্যবসায়ী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।

তাছাড়া চট্টগ্রামে মার্কেট খোলা রাখার জন্য সানমার ওশান সিটি, ইউনুস্কো সেন্টার, আফমি প্লাজাসহ বেশীর ভাগ দোকান মালিক সমিতির ব্যবসায়ীরা কাল থেকেই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছে।

লকডাউন না মানা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশির ভাগ যানবাহন চলছে,অফিস-কারখানা-বইমেলা খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাহলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান-মার্কেট খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।

বিক্ষোভকারী ব্যবসায়ীরা ‘লকডাউন মানি না’ বলে স্লোগান দেন।

তামাককুন্ডি লেইনের জুতা ব্যবসায়ী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমদের সারা বছরের ব্যবসা হয় ঈদের আগের দুই মাসে। গত বছর আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। এবারও যদি এই সময় মার্কেট বন্ধ থাকে, তাহলে তো আমাদের পথে বসতে হবে।’

তামাককুন্ডি লেইন বণিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব দাবি করেন, ‘যেভাবে বিশেষ বিবেচনায় শিল্প-কারখানা চালু রাখা হয়েছে, সেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্কেট খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হোক।’

সোমবার ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত শপিং মলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধসহ ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে গতকাল রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

করোনাভাইরাসজনিত (কোভিড-১৯) সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করায় সরকার এ লকডাউন ঘোষণা করে।

আগ্রাবাদ এক্সেস রোড হাজিপাড়া সিঙ্গাপুর মার্কেটের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ব্যবসায়ী নেতা রাজিব কুমার বলেন, তাঁরা সারা বছর ঈদের বেচাকেনার দিকে তাকিয়ে থাকেন। এ সময়ে এসে মার্কেট বন্ধের ঘোষণা তাঁদের মাথায় আঘাতের সমান। ব্যবসায়ীদের রোজার ঈদটা সারা বছরের ব্যবসা। এ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত হলে না খেয়ে মরতে হবে।’

ব্যবসায়ীরা বলেন, গত বছরের লকডাউনের কারণে তাঁরা সবাই বিপুল অর্থ দেনায় জর্জরিত হয়ে আছেন। এবার লকডাউনে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হলে তাঁদের আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

এদিকে সরেজমিনে আগ্রাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগ্রাবাদ মোড়ে লকডাউন অমান্য করে বিসিক মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসেছেন। নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতাও। লকডাউনের প্রথম দিনের চিত্র দেখে এই লকডাউনের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।