Site icon CPLUSBD.COM

লবণের কেজি ৩০ টাকার বেশি হলে ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের ডিসি

বুধবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে লবণ মিল মালিকদের সাথে এক বৈঠকে এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে পর্যাপ্ত লবণ মজুদ রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, কেউ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। সারদেশে আছে সাড়ে ছয় লাখ টন। এতে করে লবণের ঘাটতি হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই।”

দাম বেড়ে যাচ্ছে- এমন গুজবে সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে লবণ নিয়ে শুরু হয় হুলুস্থুল; চড়া দাম দিয়েও কোথাও কোথাও লবণ পাওয়া না যাওয়ার খবর আসে।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, দেশে লবণের কোনো সঙ্কট নেই।

সংকট না থাকার বিষয়টি লবণ মিল মালিকরাও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সভায় জানান। তারা বলেন, একটি চক্র গুজব সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে।

জেলা প্রশাসক ইলিয়াছ হোসেন বলেন, “চট্টগ্রামে লবণ নিয়ে কেউ গুজব ছড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রামের খোলা বাজারে স্থানীয় লবণ ১৫ টাকা এবং চট্টগ্রামের বাইরে যেসব লবণ তা প্রতি প্যাকেট ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।

“এর চেয়ে বেশি কেউ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চট্টগ্রামের মিল মালিকরা খোলা বাজারে প্রতি কেজি লবণ ১৫ টাকা দরে বিক্রি করবে বলেও জেলা প্রশাসক জানান ।

সভায় পটিয়া লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশিদ বলেন, “এই মৌসুমে ৬.৩৭ পয়সা দরে লবণ কিনেছি। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল লবণ উৎপাদনের মাস।

“বাকি ছয়মাস তার বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বাজারজাত করা হবে। এছাড়া সামনে নতুন মৌসুমের লবণ আসবে বাজারে। ইতিমধ্যে লবণের দর নিম্নমুখী।”

চট্টগ্রামেয় উৎপাদিত লবণের প্যাকেটে যে দাম আছে তার চাইতে বেশি দাম দিয়ে না কিনতে তিনি অনুরোধ করেন।

সমিতির সহ-সভাপতি ও পটিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের স্থানীয় লবণ ২০ টাকার ওপর বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

“দাম বাড়ানোর গুজব সরকারকে বিব্রত করতে এবং লবণ মালিকদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। না হলে মজুদ থাকা সত্ত্বেও কেন সংকটের কথা আসবে?”

জেলা প্রশাসন ইলিয়াছ হোসেন বলেন, “গুজবে প্রলুব্ধ হয়ে যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে, ফেসবুকে এসব লিখছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া যারা অতিরিক্ত লবণ কিনছে তাদের জরিমানা নয়, জেল দেওয়া হবে।”

সভায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।