মো: মহিন উদ্দীন: আসন্ন পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে লাগাম টানা যাচ্ছে না চাল ও তেলের দামে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে চাল, ডাল,মাছ, মাংস ও তেলের দাম। চালের ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে দেড় মাস আগে দেয়া হয় আমদানির অনুমতি ,কমানো হয় শুল্ক। বিদেশ থেকে দেশের বাজারে আসতেও শুরু করেছে সেই চাল। তারপরও কমেনি দাম বরং দেশি চালের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দাম বাড়ছে আমদানি করা চালের দামও।

আজ শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর বারটার সময় রিয়াজ উদ্দীন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ভালোমানের নাজির শাইল ৫০ কেজি বস্তা প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪শ টাকা যা কয়েক সপ্তাহ আগে বিক্রয় হত ২ হাজার ৬শ টাকায়, মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ৩ হাজার ১শ টাকা যা আগে ছিল ২ হাজার ২শ টাকা,বেতী চাল ৩ হাজার টাকা যা আগে ছিল ২ হাজার টাকা,সিদ্ধ পাইজাম ২ হাজার ৬শ টাকা যা আগে ছিল ২ হাজার ১শ টাকা, কাটারি ভোক ৩ হাজার ৫শ যা আগে ছিল ২ হাজার ৭শ টাকা,জিরাশাইল ৩ হাজার ১শ টাকা আগে ছিল ২ হাজার ৩শ টাকা,ইরি আতপ ২ হাজার ২শ টাকা যা আগে ছিল ২ হাজার টাকা,চিনি ৩ হাজার ২শ টাকা যা আগে ছিল ২ হাজার ৭শ টাকা,মটর ডাল ২ হাজার যা আগে ছিল ১ হাজার ৮শ টাকা, বড় দানার মুসর ডাল ২ হাজার ৮শ টাকা যা আগে ছিল ২ হাজার ৫শ টাকা,চিকন মুসর ডাল ৫ হাজার ২শ টাকা যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা,তেল প্রতি লিটার ১৩৫টাকা যা আগে ছিল ৯৫ টাকা।
এদিকে স্বস্তি নেই মুরগির দামেও। সবধরনের মুরগির দর কেজি প্রতি বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এর জন্য সরবরাহ সঙ্কটকেই দুষছেন বিক্রেতরা।
খুচরা পর্যায়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকার মধ্যে। মাসখানেক আগে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১২৫-১৩০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া সোনালি মুরগির দামও বেড়ে ৩০০ টাকা হয়েছে। লাল কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি।
গরুর মাংসের দাম ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের দাম ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। বাজারে শীতকালীন সবজি কমতে শুরু করলেও দাম বাড়েনি। আলু ও পিঁয়াজের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে একটু কমেছে।
বাজারে সব থেকে দামি সবজির তালিকায় রয়েছে পটল ও ঢেঁড়স। এ দুটি সবজির কেজি এখনো ১০০ টাকার আশপাশে। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকার মধ্যে। ধরনভেদে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি। প্রতি কেজি মুলা ১৫-২০ টাকায়, বেগুন ৫০ টাকায়, পেঁপে ৩৫ টাকায়, গাজর ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আড়তে ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকায় আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ২০টাকা দরে। খুচরা পর্যায়ে দেশি পিঁয়াজের কেজি ৩০-৪০ টাকা। আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি।
এতে চাল কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি মিল পর্যায়ে মনিটরিং করলেই বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
অপরদিকে সবজির বাজার নিম্নমূখী থাকলেও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে লেবুর দর। আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হওয়া লেবু বিক্রি হচ্ছে হালিপ্রতি ৮০ টাকায়।
দফায় দফায় চালের দাম বাড়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
রিকশা চালক কামাল,দিন মজুর হেলিম মাঝি বলেন, আমরাতো সামান্য আয় করি, চালের দাম বাড়লে আমরা কেমন করে চলবো কেমন করে কিনে খাবো। এ রকম দফায় দফায় চালের দাম বাড়লে আমাদের সমস্যা হয়। এই রকমভাবে চালের দাম যাতে না বাড়ে সরকার সেই ব্যবস্থাই যেন করে।
তবে দাম বৃদ্ধির পাইকারি বাজারের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। এতে দৈনিক বাজারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন ভোক্তারা। এদিকে চালের অন্যতম চাক্তাইও চালের বাজার অস্থির। সপ্তাহ ব্যবধানে সব ধরনের প্রতি কেজি চালের দাম বেড়েছে ৭ থেকে ৮ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ী পলাশ,নুরুল ইসলাম,আবছার,ইলিয়াছসহ অনেকেই জানান, চালের মুল আড়ত হল চাক্তাই। যখন সেখানে দাম বাড়ে তখন আমাদেরও তো ২/১ টাকা লাভ করতে হবে। তবে সামনে চালের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তো আর বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রয় করতে পারব না।
জানা গেছে, খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর বেসরকারিভাবে চাল আমদানির জন্য বৈধ আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রসহ ১০ জানুয়ারির মধ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। এরপর বিভিন্ন শর্তে বেসরকারি পর্যায়ে সর্বমোট ৩২০ ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই অনুমতির চিঠি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
চাল আমদানির শর্তে বলা হয়, বরাদ্দপত্র ইস্যুর সাত দিনের মধ্যে ঋণপত্র (এলসি) খুলতে হবে। এ সংক্রান্ত তথ্য খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে ই-মেইলে জানাতে হবে। ব্যবসায়ীদের মধ্যে যারা এক থেকে পাঁচ হাজার টন বরাদ্দ পেয়েছেন, তাদের এলসি খোলার ১০ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০ দিনের মধ্যে বাকি চাল বাজারজাত করতে হবে।
এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান পাঁচ হাজার টনের চেয়ে বেশি চাল আমদানির বরাদ্দ পেয়েছে তাদের এলসি খোলার ১৫ দিনের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ৩০ দিনের মধ্যে বাকি ৫০ শতাংশ চাল এনে বাজারজাত করতে হবে বলে শর্ত দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়।
রিয়াজ উদ্দীন বাজার আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: ফারুক শিবলী সিপ্লাসকে বলেন, আবহাওয়া ভাল থাকায় সবজির দাম সাধারণ মানুষের নাগালে রয়েছে। তবে যখন যে মৌসম আসে তার উপর নির্ভর করে দাম। প্রথম প্রথম উৎপাদিত হওয়া সবজির দাম বেশি থাকলেও পরে তা কমতে থাকে। আসন্ন রমজানে যদি এরকম আবহাওয়া থাকে তাহলে সবজির দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
রিয়াজ উদ্দীন বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো: মাহাবুল আলম সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের সংগঠন হল পুরো রিয়াজ উদ্দীন বাজারের প্রধান সংগঠন। আরও অনেক সংগঠন আছে। তবে কোন ব্যবসায়ীর সাথে ক্রেতার বড় কোন ধরনের সমস্যা হলে তা নিয়ে সমাধান করা হয়। আমার কাপড়ের দোকান তাই চালের বাজার সর্ম্পকে মুদি কিংবা গ্রোসারি সমিতি ভাল বলতে পারবে।








