নিউজটি শেয়ার করুন

লাদাখের বিতর্কিত এলাকা ফের দখলে নিয়েছে চীন

সিপ্লাস ডেস্ক: ভারত ও চীনের লাদাখ সীমান্তে বিতর্কিত এলাকাটি ফের দখলে নিয়েছে বেইজিং সরকার। গেল সপ্তাহে সীমান্তের ওই পেট্রোলিং পয়েন্ট (পিপি) এলাকাতেই দুই পক্ষের সেনাদের মধ্যে হাতাহাতিতে ২০ ভারতীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছিল।

শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফের ভারতের এলাকা দখল করে বসে পড়েছে চীন সেনারা। অবশ্য এ নিয়ে ‘ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে’ চীনকে সতর্ক করে দিয়েছে নয়াদিল্লি।

সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানাচ্ছে, পয়েন্ট ১৪-সহ গোটা এলাকায় চীনা সেনার উপস্থিতির কারণে পেট্রোলিং পয়েন্ট ১০, ১১, ১১এ, ১২ এবং ১৩তে যেতে পারছে না ভারতীয় সেনারা।

এদিকে শুক্রবার দিল্লিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের কাছে সীমান্ত পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন সেনাপ্রধান এম এম নরবণে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে রাজনাথের।

এ সম্পর্কে চীনে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিস্রি বলেন, পূর্ব লাদাখে সমস্যা মেটানোর পথ একটাই। বেইজিংকে বুঝতে হবে সীমান্তে স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে তাদেরও এর ফল পেতে হবে। ভারতীয় বাহিনীর স্বাভাবিক টহলদারির আটকানোর চেষ্টা না করা হলেই কেবল দু দেশের সমস্যা মেটানোর সম্ভব।

সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে চীন; যার মধ্যে পড়েছে বটল-নেক পয়েন্ট বা ওয়াই জংশন পেট্রোলিং পয়েন্ট। এই ওয়াই জংশন পয়েন্ট থেকেই পিপি ১০, ১১, ১১এ, ১২ ও ১৩ যাওয়ার রাস্তা। কিন্তু চীনা সেনারা বসে থাকায় আপাতত সেই এলাকায় পৌঁছতে পারছে না ভারতীয় সেনা। এর ফলে কয়েকশো বর্গ কিলোমিটার এলাকায় নজরদারি বন্ধ রাখতে হয়েছে ভারতকে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় পিপি-১৪-এ চীনা সেনা পরিকাঠামো তৈরির চেষ্টা করায় দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। ওই সংঘর্ষে মোট ২০ ভারতীয় সেনা নিহত এবং আরও ৭৬ জন আহত হয়। ওই সংঘর্ষে বেশ কিছু চীনা সেনাও হতাহত হয়েছে বলে শোনা গেছে। যদিও তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি। ওেই সংঘাতের পর বিতর্কিত এলাকাটি থেকে পিছু হটে চীনারা। কিন্তু ১০ দিনের মধ্যে ফের পেট্রোলিং পয়েন্ট ১৪-র কাছে ঘাঁটি গেড়েছে চীন সেনারা।