Site icon CPLUSBD.COM

লালদিয়ারচরে উচ্ছেদের সময় বাড়ল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী লালদিয়ার চর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এরপরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের একটি নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে ২৫ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদের কথা থাকলে আজ কোন প্রকার উচ্ছেদ অভিযান হয়নি লালদিয়া চর এলাকায়।

তবে এক সপ্তাহ আগে থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানির সংযোগ। এরমধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্কে কিছু পরিবার আসবাপত্র নিয়ে চলে যেতে দেখা যায়। আবার অনেকই বলছে শেষ রক্তবিন্দু থাকা পযন্ত লালদিয়ার মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে।

এসময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর হাসান বলেন, ‘চর এলাকার লোকজন খুবই গরিব। উচ্ছেদ করলে ভাড়া বাসায় যাওয়ার মতো সামর্থ্য পরিবারগুলোর নেই। তবুও যদি কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ করতে আসে তাহলে লালদিয়ার চরবাসি ওইদিন বিমানবন্দর সড়কে শুইয়ে থাকবে।

বিগত ৪৮ বছর আগে সরকারকে নিজেদের ভিটা মাটি ছেড়ে দিয়ে লালদিয়ার চর এলাকার ২ হাজার ৩শ পরিবার এখন নিঃস্ব। তাদের থাকার জায়গার ব্যবস্থা না করে এভাবে উঠিয়ে দেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন।

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ভবন নির্মাণ করে দিয়ে যেখানে প্রধানমন্ত্রী মানবিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, সেখানে এ চরবাসিদের সামান্য থাকার জায়গা ব্যবস্থা করে দেওয়া সরকারের পক্ষে কোনো বিষয় না। আমি এ জনবসতি উচ্ছেদ না করতে সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।’

তবে বন্দর সচিব ওমর ফারুক মুঠোফোনে সিপ্লাসকে জানান, জনপ্রতিনিধিদের অনুরোধে কিছু সময় বাড়ানো হল। তবে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ১ থেকে ৯ মার্চের মধ্যে যেকোন দিন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অন্যদিকে বুধবার বিকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, লালদিয়ার চরে ‘অবৈধ দখলদারদের’ উচ্ছেদে অনড় অবস্থান জানিয়ে , সেখানে পুনর্বাসন করার মতোও কেউ নেই। লালদিয়ার চরে জমি ‘দখলে রেখে’ যারা আর্থিক ‘ফায়দা লুটেছে’ তাদের তালিকা করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

উচ্ছেদের পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ বলেন, “পৃথিবীর কোনো বন্দরে এত বেশি জনবসতি বা যানবাহন চলাচল করে না। আমরা সে জায়গাগুলোতে আধুনিকায়ন করতে চাচ্ছি। বিদেশিরা যখন আসে, যখন দেখে বন্দরের মধ্যে এত চলাচল, এত বস্তি, বাড়িঘর, তখন কিন্তু আমাদের বন্দরটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।”

তিনি বলেন, “অবৈধভাবে কেউ কোনোকিছু দখল করে রাখার কোনো সুযোগ নাই। কেউ যদি অপারগ হয়। কারও যদি কোনো ঠিকানা না থাকে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে তাদেরকে ঠিকানা দেবেন। কিন্তু অবৈধভাবে যারা দখল করে থাকবে, তাদেরকে আমরা উচ্ছেদ করব। মুলত হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের(এইচআরপিবি) করা এক রিট আবেদনের ওপর শুনানির ধারাবাহিকতায় এ আদেশ দেন আদালত।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৯ মার্চের মধ্যে উচ্ছেদ সম্পন্ন হতে হবে।