সিপ্লাস ডেস্ক: লালমনিরহাটের বুড়িমারিতে ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে একজনকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব মাওলানা এমএ মতিন বলেছেন, ধর্মের কথা বলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হলেও তা ‘সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী’।
শনিবার বিকেলে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এই অভিমত জানান।
মাওলানা এমএ মতিন বলেন, “লালমনিরহাটে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা সম্পূর্ণ ইসলামবিরোধী ও মানবতাবিরোধী। এহেন ন্যক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কেউ অপরাধ করলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে। দেশের প্রচলিত আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজন মানুষকে প্রকাশ্য দিবালোকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ওপরও ন্যক্কারজনকভাবে হামলা করা হয়েছে।”
এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করেন ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব।
তিনি বলেন, “ইসলাম শান্তির ধর্ম। কোনো ধর্মই সহিংসতা ও মানুষ হত্যা সমর্থন করে না। ধর্মের নাম ব্যবহার করে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।”
উত্তেজিত জনতা সড়কেও আগুন ধরায়।
গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নে পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে মো. সহিদুন্নবী জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে স্থানীয় জনতা। রংপুর শহরের শালবন মিস্ত্রি পাড়ার আবু ওয়াজেদ মিয়ার ছেলে জুয়েল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।
এই ঘটনার প্রতিবাদে বিকালের এই সমাবেশ থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।
তাদের দাবিগুলো হল-
# লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলা বুড়িমারী ইউনিয়নে গুজব ছড়িয়ে মো. সহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে হত্যা ও লাশ পুড়িয়ে ফেলার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
# বিভিন্ন ধর্মীয় সভা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক গুজব ছড়ানো ও অপপ্রচারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
# ধর্ষণের ন্যায় ‘বলাৎকারের’ অপরাধে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
# মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের যৌন নিপীড়ন বন্ধে নজরদারি বাড়াতে হবে।এবং
# মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাতীয় সংগীত বাজানো, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ মিনার নির্মাণ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে হবে।
সভায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “সকল ধর্মের মানুষদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করা প্রত্যেকটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মকে কটাক্ষ করা, ধর্মের অপব্যবহার ইত্যাদি অমার্জনীয় অপরাধ। প্রকৃতপক্ষে এরা বিভিন্ন ধর্মীয় উসকানিমূলক অপপ্রচার চালিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এহেন কর্মকাণ্ড কখনোই বরদাশত করবে না মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, “কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী দণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখা যাচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়ে যারা নাশকতা করে মানুষ হত্যা করেছিল, সেই মৌলবাদী অপশক্তিই সম্প্রতি ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। এরা ইসলামের শত্রু। এরা কখনোই ইসলাম ধর্মের আদর্শ ধারণ করে না। ধর্মীয় লেবাসে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র করাই এদের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে এরা জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
“সাধারণ মানুষদের ভুল বুঝিয়ে গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে লোকটিকে পিটিয়ে পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। অন্যথায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ সমগ্র দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান রাজু, রিয়াজুল আবীর, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদোয়ানুল হাসানসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








