সিপ্লাস প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে একটি বুনো হাতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
এটির গায়ে গুলির দাগ ছিল, ছিল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার জখমও।
সোমবার সকালে লোহাগাড়া উপজেলার বড় হাতিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘোনা এলাকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে দুই পাহাড়ের মাঝ থেকে হাতিটির মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
হাতিটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে বনবিভাগের ধারণা।
২৩ নভেম্বর সকালে উপজেলার বড় হাতিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণঘোনা এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতর দুই পাহাড়ের মাঝে জমিতে হাতিটির মৃতদেহ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত রাশেদুল ইসলাম।
পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত রাশেদুল ইসলাম বলেন,’মৃত হাতিটিকে দেখতে পেয়ে সকালে স্থানীয় লোকজন চুনতি বন সংরক্ষণ অফিসে খবর দেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করা হয়েছে।জিডিতে হাতিটি বার্ধক্যজনিত রোগে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ আছে।
কিন্তু পরে সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, হাতির শরীরের গুলির দাগও আছে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আলামতও আছে। পোস্টমর্টেম হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা আমাদের বলেছেন, তারা হত্যা মামলা করবেন।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি সার্জন মিলে মৃত হাতিটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
এতে বলা হয়েছে, হাতিটির শরীরে একটি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দাগ পাওয়া গেছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার চিহ্নও আছে। ময়নাতদন্তের পর হাতির মৃতদেহ বনাঞ্চলের ভেতরেই মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বনাঞ্চলের ভেতরে একটি আশ্রায়ণ প্রকল্প আছে। সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। মৃত হাতিটিকে পাওয়া গেছে বনের ভেতরে দুই পাহাড়ের মাঝে সরকারি খাস জমিতে। সেখানে যারা চাষাবাদ করেন, তারাও ফসল রক্ষায় জমিতে বিদ্যুতের সংযোগ দেন। বনের ভেতরে অনেক ধরনের লোকজনের আনাগোনা আছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কে বা কারা হাতিটিকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। আমরা থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

