গত বছর অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন আমরা আপনাদের দেখানোর পর অনেকে সম্মান দেওয়ার কথা বল্লেও এখনো যথাযথ সম্মান দেয়া হয়নি অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদকে ।(ভিডিও সংযুক্ত)সংবাদ প্রচারের পর অনেকে সম্মান দেওয়ার কথা দিলেও কথা রাখেনি কেউ ।
অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ
ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নাজিরহাট কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ।
কৃতী শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ ১৯২২ সালে চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব মাদারবাড়িতে এক মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৩৯ সালে চট্টগ্রামের মুসলিম হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৪১ সালে এইচএসসি, ১৯৪৫ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অনার্স এবং ১৯৪৭ সালে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে কৃতিত্বের সাথে এমএ পাস করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি প্রথমে নাজিরহাট কলেজে আরবি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৮৬ সালে তিনি এই কলেজ থেকে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তার সততাময় কর্মের ইতি টানেন বা অবসর গ্রহণ করেন । মানুষ পৃথিবীতে আসে আবার পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম, মানুষের এই আসা যাওয়া চলছে এবং চলবে। এই আসা যাওয়ার মধ্যে পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকে, যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করার জন্য এই পৃথিবীতে আসেন।
তাদের জীবনযাপন চিন্তাধারা, দৃষ্টিভঙ্গি, সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা, নির্লোভ মানসিকতা, কর্মপরায়ণতা, মহানুভবতা, বিনয় ও দেশপ্রেম চিরকাল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।এই ধরনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেলেন নাজিরহাট কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ। এ অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে তার অবদান অতুলনীয়।
দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবনে এই মানুষটি নিরলস ভাবে যে পরিশ্রম করে গেলেন তারই সাক্ষ্য আজ বহন করছে চট্টগ্রাম-নাজিরহাট কলেজ।
অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ অসংখ্য সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব প্রর্যন্ত পূর্ব মাদারবাড়ি সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি বালক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং ৩০নং পূর্ব মাদারবাড়ি সম্মিলিত সর্দার ও মাঝিরঘাট সমাজ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ছিলেন। চট্টগ্রাম লেখক সমাজের সাথে ও তিনি জড়িত ছিলেন। তিনি দৈনিক পূর্বকোণ পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। তিনি তার লিখা ‘আলোর ভুবনে’ও ‘স্বর্ণ প্রদীপ জ্বালো’ শীর্ষক দুইটি বইয়ের পান্ডুলিপি রেখে গেছেন। বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ ১৯৯২ সালে ৪ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।








