নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বরণ করলো ৩৪১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

মো: মহিন উদ্দীন: দীর্ঘ দেড় বছর করোনা মহামারীর কারণে বন্ধ থাকার পর আজ ১২ সেপ্টেম্বর রবিবার খুলছে স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরাজ করছে ভিন্ন মাত্রার আমেজ। অন্যদিকে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বরণ করেছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কলেজসহ ৩৪১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

বেশিরভাগ অভিভাবকই সন্তানকে ক্লাসে পাঠাতে চান। শিক্ষার্থীরাও মুখিয়ে আছে প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরতে। স্কুল খোলার ঘোষণার পর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষক ও স্কুল সংশ্লিষ্টরা।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল দশটায় সিটি কর্পোরেশন এলাকার কয়েকটি স্কুল-কলেজ ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

নগরীর চট্টগ্রাম বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করছেন। প্রবেশ করতেই রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাস্ক ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করছে। দীর্ঘদিন পরে নিজেদের প্রিয় প্রতিষ্ঠানে এসেই সহকর্মীদের সাথেও আনন্দ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। এ সময় শিক্ষার্থীদের মাঝে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়।

জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে হবে না। কারণ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু পিইসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করতে পারবে। বাকিদের একদিন স্কুলে সরাসরি ও সপ্তাহের বাকি দিন ক্লাস হবে অনলাইনে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রিয়ম পাল, আরিফুল ইসলাম ও অস্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অসি সরকারসহ অনেকেই সিপ্লাসকে বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও আমরা অনলাইনে ক্লাস করেছি। এখন সশরীরে ক্লাস হবে। সকল সহপাঠীকে এক সাথে দেখবো তাতে ভাল লাগবে।

২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ এই সময়ে চলছে অনলাইনে লেখাপড়া। এখন করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী।

অভিভাবকরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সবাইকে স্কুলে পাঠানো উচিত। শারীরিক গঠন পরিবর্তিত হওয়ায় নতুন করে সন্তানদের পোশাক বানানো ও জুতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন এক অভিভাবক।

শিক্ষাবিদ ও জনস্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চালাতে হবে শিক্ষা কার্যক্রম। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মানানোর বিষয়েও শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তুলতে হবে।

বিশ্লেষকরাও বলছেন দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পরার হার ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন তারা।

নগরীর বাগমনিরাম স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাবু সুকুমার দেবনাথ সিপ্লাসকে বলেন, প্রতিদিন যেহেতু সকল শ্রেণির ক্লাস নেই তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়ালেখা কঠিন হবে না। কারণ আমাদের এবার পরীর্ক্ষাথী ৯১ জন। তাই একেক রুমে ২০ জন করে বসালেই হবে।

চট্টগ্রাম বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আরিফুল হাসান চৌধুরী বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠদান কার্যক্রম চলবে। প্রথমে আমরা একটি করে ক্লাস শুরু করায় যথেষ্ট ক্লাসরুম পাবো। শিক্ষার্থী সংখ্যা কমিয়ে এনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নির্দিষ্ট দূরত্বে বসানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

চট্টগ্রামের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২ হাজার ২৬৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাঠদানের উপযোগী করে তোলা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কিভাবে ক্লাস করাতে হবে তার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোও সাধ্যমত প্রস্তুতি নিয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর। তাছাড়া চট্টগ্রাম জেলায় ১১৪৮টি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা রয়েছে। তার মধ্যে ৯২৬টি এমপিও ভুক্ত এবং ২২২টি ননএমপিও। এ সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাধ্যমিক ৬৮২টি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ৪৮টি, কলেজ ১০৪টি এবং মাদরাসা ৩১৪টি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here