সিপ্লাস ডেস্ক: পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাকলিয়া থানাধীন দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আলম মিয়াকে ফাঁসাতে গিয়ে তার বাড়ির এক ভাড়াটিয়ার শিশু আবদুর রহমান আরাফ (২) হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মো. হাসান (২২) নামে এক আসামি।
রোববার (১৪ জুন) অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দীন মুরাদের আদালতে মো. হাসান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (চকবাজার জোন) মুহাম্মদ রাইসুল ইসলাম।
১০ জুন আরাফ হত্যার ঘটনায় হাসান ও ফরিদকে গ্রেফতার করেছিল বাকলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালত তাদের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দীন বলেন, আরাফ হত্যা মামলায় হাসানকে রিমান্ডে আনা হয়েছিল। রিমান্ডের ৪র্থ দিনে হাসান ঘটনার বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে চায়। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে হাসানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আরাফ হত্যার পরিকল্পনাকারী মো. ফরিদ (৩৮) পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন। ফরিদের সঙ্গে দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী নুরুল আলম মিয়ার পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল।
গ্রেফতার হাসান আরাফের হত্যকারী নাজমা বেগমের ছেলে। হাসানের সহায়তায় নাজমা বেগম আরাফকে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
৭ জুন বাকলিয়া থানাধীন ম্যাচ ফ্যাক্টরী রোডে নুরুল আলম মিয়ার বাড়ির ছাদে ট্যাংক থেকে আবদুর রহমান আরাফের (২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
আবদুর রহমান আরাফ নুরুল আলম মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া আবদুল কাইয়ুমের ছেলে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) নাজমা বেগমকে গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। ৯ জুন বিকেলে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিউদ্দীন মুরাদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন নাজমা বেগম।
নাজমা বেগম কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর এলাকার তাজুনুর ইসলাম প্রকাশ বাবুলের স্ত্রী। তিনি বাকলিয়া থানাধীন ম্যাচ ফ্যাক্টরী রোডে নুরুল আলম মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
জবানবন্দিতে নাজমা বেগম উল্লেখ করেন, নুরুল আলম মিয়াকে ফাঁসাতে ফরিদ নামে একজনের প্ররোচনায় এ হত্যকাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি। তিনি আর্থিকভাবে দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন, ফরিদ তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে এ হত্যাকাণ্ডে প্ররোচিত করেন।








