নিউজটি শেয়ার করুন

শূন্য নগরে আতঙ্ক আর ক্ষুধা নিয়ে আছে রিকশাচালকরা

সিপ্লাস প্রতিবেদক
জাফর আহমদ (৪৫) নগরীর সেগুনবাগান এলাকার একটি কলোনীতে পরিবার নিয়ে বাস করেন। পেশায় রিকশা চালক জাফর মুখে মাস্ক পরে নগরীর চকবাজার গুলজার মোড়ে দাড়িয়ে আছেন প্রায় ঘন্টা পার হলো। এখনো কোন যাত্রী পাননি। পেলেও তার ভাড়ার সাথে মিলছে না। যার কারণে কপালে চিন্তার ভাজঁ নিয়ে বসে আছেন রিকশার উপর।
সরকার বাসায় থাকতে বলছে তারপরও কেন  রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন জানতে চাইলে জাফর আহমদ বলেন, সরকার বলছে ঠিক আছে বাবা। কিন্তু আমাদের তো কোন জমা নেই, যে জমার টাকা দিয়ে খাব আর ঘরে বসে থাকবো। টিভিতে সরকার খাদ্য দিচ্ছে দেখতেছি, কিন্তু এখনো আমাদের কলোনীতে কোন খাদ্য আসেনি। যার কারণে অসুখ হবে জেনেও পেটে ক্ষিধার জ্বালা নিয়ে  বের হয়েছি।
নভেল করোনা ভাইরাস এর কারণে সারাবিশ্বে অনির্দিষ্টকালীনের জন্য বন্ধ। ঘর থেকেও বের হচ্ছে না মানুষ। এক সময় যে নগরে ছিল রাত-দিন ২৪ ঘন্টায় মানুষের কোলাহর আর ব্যস্ততা। সেখানে এখন বিরাজ করছে শুনসান নীরবতা। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে পুরোপুরি লক ডাউন করে দেওয়ার পর বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও চলছে এক প্রকার অঘোষিত লক ডাউন। নগর পুলিশের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম নগরে প্রবেশ ও বাহিরের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এখন পুরোপুরি বন্ধ চট্টগ্রাম নগর। বন্দর নগরী চট্টগ্রাম দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর।
এ শহরে দিন রাত থাকে ব্যবসায়িক মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আনাগোনা। সরকারী নির্দেশনার পর সবাই যখন নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছেন তখন পেঠের দায়ে ধূ ধূ শুন্য নগরে রিকশা নিয়ে বসে আছেন রিকশাচালকেরা। সরকারী এবং বেসরকারী বিভিন্ন সংস্থা ঘরবন্দি এসব মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌছে দিলেও অনেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব সহায়তা থেকে। যার কারণে মৃত্যু আতঙ্ককে সামনে নিয়ে ক্ষধার জ্বালায় রিকশা চালিয়ে যাচ্ছে এসব দিন মজুররা।
নগরীর চকবাজার, জামালখান, আন্দরকিল্লা, বহদ্দারহাট, জিইসি, মুরাদপুর, ওয়াসা মোড়, দেওয়ানহাটসহ নগরীর মোড়ে মোড়ে রিকশা নিয়ে পথ চেয়ে বসে আছেন রিকশা চালকরা। চোখে মুখে হতাশা আর চিন্তার ভাঁজ। জাফরের মতো অনেক দিন মজুর আছে যারা খাদ্য অভাবে মহামারী করোনা ভাইরাসের এ দিনগুলোতেও জীবনের ঝূকি নিয়ে অনিশ্চিত জীবনকে হাতে নিয়ে বাসা থেকে বের হচ্ছে। এসব রিকশাওয়ালা জানে না তাদের কি হবে। তবে তারা জানে বেঁচে থাকতে হলে খাবারা খেতে হবে। যার কারণে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় দিন কাটছে নিম্ন আয়ের এ জনগোষ্টী।