Site icon CPLUSBD.COM

শেষ দিকে এসে হালদায় ডিম ছেড়েছে মা মাছ

মোঃ আলমগীর হোসেন,হাটহাজারী প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হালদা নদীতে আবারও ডিম ছেড়েছে মা মাছ।

বুধবার (২ জুন) সকালে হালদার বিভিন্ন কোমে নমুনা ডিম ছাড়লেও বিকাল ৫টা থেকে পুরোদমে ডিম ছাড়তে থাকে মা মাছ।

বুধবার বিকালে হালদার নয়াহাট, মাছুয়াঘোনা, শাহ মাদারীঘাট, আজিমের ঘাটা, বশির মোহাম্মদ সিপাহীর ঘাট, সত্তারঘাট, মদুনাঘাট ঘুরে দেখা যায় নৌকা, জাল, বালতিসহ ডিম সংগ্রহের নানা সরঞ্জাম নিয়ে শত শত ডিম সংগ্রহকারী হালদার দুই পাড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোনো জায়গায় ডিম সংগ্রহকারীদের নিরবতা আর অপেক্ষা আবার কোনো জায়গায় ডিম সংগ্রহের উৎসবের আমেজ এনিয়ে চলছে হালায় ডিম সংগ্রহের প্রক্রিয়া।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা) গড়দুয়ারা নয়াহাট এলাকার প্রবীণ ডিম সংগ্রহকারী কামাল সওদাগর ১০ কেজি, একই এলাকার আরেক ডিম সংগ্রহকারী মাহাবুব ৮ কেজি ডিম পেয়েছেন বলে জানান। অন্যদিকে মাছুয়াঘোনা এলাকার ডিম সংগ্রহকারী জামশেদ জানান, তিনি ৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করেছেন।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে মাছুয়াঘোনার ডিম সংগ্রহকারী শহিদুল্লাহ ও নয়াহাটের শফির ক্ষেত্রে। তারা দুই জনে ২০০-৩০০ গ্রাম ডিম পাওয়ার কথা জানান।

এসময় ডিম সংগ্রহকারী শফী জানান, বুধবার এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যে হালদায় ডিম পাওয়া না গেলে এবছর আর ডিম পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

উল্লেখ্য হালদা হতে ২০১৮ সালে ২২ হাজার, ২০১৯ সালে ১০ হাজার এবং ২০২০ সালে প্রায় ২৫ হাজার ৫শ ৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হলেও ২০২১ সালের মে মাসে গত বছরের চেয়ে ৩/৪ গুণ কম ডিম সংগ্রহ করা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা গবেষণাকেন্দ্র হালদা রিভার রিসার্চ অ্যান্ড ল্যাবরেটরির তথ্যমতে, চলতি বছর মে মাসে হালদা হতে সংগৃহিত ডিমের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কেজি।

কয়েক জন ডিম সংগ্রহকারী ৪/৫ বালতি ডিম সংগ্রহ করেছে উল্লেখ করে হালদা গবেষক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া সিপ্লাসকে জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি উত্তর থেকে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলে বুধবার বিকাল ৫টা হতে মা মাছ পুরোদমে ডিম ছাড়তে শুরু করে।

শাহমাদারী হ্যাচারিতে মে মাসে সংগৃহিত ডিম থেকে ফুটানো রেণু নষ্টের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসার ফারহানা লাভলী।