চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ চন্দনাইশে শ্রমিক সরবরাহের নামে এস বিএম ইটভাটা মালিকের ৩৩ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালী জেলার সদর উপজেলার করমুল্লাহ বাজার এলাকার মৃত তরিকুল্লাহর ছেলে নুরুল হুদার বিরুদ্ধে।
টাকা আদায়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ইটভাটা মালিক হাজী আসহাব মিয়া।
মঙ্গলবার (৬ জুলাই) উপজেলার সাতবাড়িয়া ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারিং (এসবিএম) অফিস কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দুঃখভারাক্রান্ত মন নিয়ে নুরুল হুদা কর্তৃক দেওয়া ভোগান্তির কথা সাংবাদিকদের নিকট তুলে ধরেন ইটভাটাটির মালিক হাজী আসহাব মিয়া।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত চন্দনাইশে কর্মরত স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকগণ তাঁর পুরো বক্তব্য শুনে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হাজি আসহাব মিয়া নোয়াখালী পুলিশ প্রশাসনের নিকট শ্রমিক মাঝি নুরুল হুদার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন প্রশাসন যেন তার টাকাগুলি নুরুল হুদার কাছ থেকে আদায় করে দেন।
ঘটনার বিবরণে হাজী আসহাব মিয়া জানান, এসবিএম ইটভাটার ১৮-১৯ মৌসুমের ইট প্রস্তুতের জন্য ৬ফর্মা ও ৮ ফর্মা পাক মিলের জন্য ৪৫ জন শ্রমিক সরবরাহের জন্য নোয়াখালী জেলার উপজেলা সদরের করমুল্লাহ বাজার এলাকার মৃত তরিকুল্লাহর ছেলে নুরুল হুদার সাথে ২০১৮ সালের ২৬ জুন অগ্রীম চুক্তি হয়। ওইদিন ১০হাজার টাকা নগদ গ্রহন করার পর চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নুরুল হুদাকে দুই ধাপে ৩৩ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। শ্রমিক নিয়ে চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়িয়া এসবিএম ব্রিকফিল্ডে আসার কথা থাকলেও নুরুল হুদা অভিনব কায়দায় ৪৫ জন শ্রমিক চন্দনাইশে আনার কথা বলে নোয়াখালীর দুইটি ব্রিকফিল্ডে সরবরাহ করে ফেলেন। পরের দিন তড়িঘড়ি নোয়াখালীতে নুরুল হুদার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও নুরুল হুদা আসহাব মিয়াকে এড়িয়ে চলেন।
বিষয়টির সুরাহার জন্য নোয়াখালী সদর উপজেলা ব্রিকফিল্ড মাঝি শ্রমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয়ে বিচার দেন আসহাব মিয়া। সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল নুরুল হুদাকে ডেকে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। সেদিন সালিশি বৈঠকে ব্রিকফিল্ড মাঝি শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরৎ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নুরুল হুদা ৮ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা মওকুফ চেয়ে আসহাব মিয়ার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। সেসময় তিনি ৮লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা ক্ষমা করে দেন। অবশিষ্ট ২৫ লক্ষ টাকার মধ্যে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নগদ ও ৩ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন নুরুল হুদা। অবশিষ্ট ১৫ লক্ষ টাকা ২০১৮ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলা ব্রিকফিল শ্রমিক মাঝি সমবায় সমিতি লিঃ নামক সংগঠনের মাধ্যমে পরিশোধ করবে বলে আশ্বাস দিলেও অদ্যাবধি নুরুল হুদা অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করেনি। শর্ত অনুযায়ী সালিশি বৈঠকে নুরুল হুদা ইসলামী ব্যাংক নোয়াখালী শাখার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চেক সমিতিতে জমা দেন। টাকা পরিশোধ করা হলে এই সব কাগজপত্র ফেরত দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।
সেদিন সালিশি বৈঠকে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হক, জিল্লুর রহমান, আমানুল্লাহসহ চারজন। এছাড়াও এডভোকেট জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে নুরুল হুদা বরাবরে সমিতির সভাপতি নুরুল আমিনের নিকট লিগ্যাল নোটিশ পাঠালে নুরুল হুদা ও সভাপতি নুরুল আমিন লিগ্যাল নোটিস এর কোন জবাব না দিয়ে বিগত ৪ জুলাই সভাপতি নুরুল আলম সাফ জানিয়ে দেন নুরুল হুদার কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আসহাব মিয়াকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন সভাপতি নুরুল আলম। অবশিষ্ট টাকা আদায়ে নোয়াখালী পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।








